প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত বুধবার সকালে উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মধ্য বদলকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে স্থানীয় দারুল ইসলাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন চলছিল। এ খবর বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে সহপাঠীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় তারা। বাল্যবিবাহ বন্ধের দাবিতে তারা সেখানে লাল পতাকা নিয়ে বিক্ষোভও করে।

সেই খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে বিয়েবাড়িতে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা। তিনি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সেই বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন এবং কনে ও বরপক্ষকে অর্থদণ্ড দেন। এ ছাড়া ওই ছাত্রীর বাবার কাছ থেকে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে মুচলেকা নেন তিনি।

এর আগেও সহপাঠীদের সহায়তার কারণে অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে রেহাই পেয়েছে। এমন অনেক ঘটনা আমরা খবর হতে দেখেছি। ভুক্তভোগী নিজেই বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দিয়েও প্রশংসিত হয়েছে, পুরস্কৃতও হয়েছে। তবে চাটখিলের শিক্ষার্থীরা যেভাবে বিক্ষোভ করে বাল্যবিবাহ পণ্ড করে দিল, সেটি অবশ্যই অনন্য ঘটনা। তাদের এই তাৎক্ষণিক কর্মসূচি নিঃসন্দেহে বাল্যবিবাহ বন্ধে সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।

বাল্যবিবাহ নামের যে সামাজিক ব্যাধি দেশকে গ্রাস করতে বসেছে, তা থেকে রেহাই পেতে হলে প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে এবং আইন প্রয়োগ করতে হবে। তবে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক জাগরণ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। চাটখিলের মেয়েরা সেটিই করে দেখাল। এমন সাহসিকতার জন্য দারুল ইসলাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা অভিবাদন জানাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন