বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ঘটনায় বরগুনার পাথরঘাটার বিষখালী নদীসংলগ্ন চরলাঠিমারা এলাকা থেকে গত রোববার রাতে সাতটি হরিণের চামড়াসহ মাংস উদ্ধার করেছে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড। তবে ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেননি কোস্টগার্ডের সদস্যরা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে যে চিত্র পাওয়া যায়, তা অতি উদ্বেগজনক। বাস্তবতা হলো, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও
প্রভাবশালী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে শিকারিরা হরিণ ধরেন। হরিণ জবাইয়ের পর বনের ভেতরেই মাংস কেটে প্যাকেট করা হয়। সেখান থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিক, শৌখিন মানুষের বাড়িতে সেই প্যাকেট পৌঁছে যায়। অনেক সময় উপঢৌকন হিসেবে হরিণের মাংস, চামড়া এমনকি জ্যান্ত হরিণও পাচার হয়।

হরিণের মাংস মূলত সুন্দরবনসংলগ্ন জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর এসব জেলা থেকে অথবা এই জেলার ওপর দিয়ে আসে। সরকারি হিসাবে সর্বোচ্চ এক লাখ হরিণ আছে সুন্দরবনে। বছর কয়েক আগের একটি জরিপে দেখা গেছে, বছরে ১১ হাজারের বেশি হরিণ নিধন হচ্ছে। অথচ এসব প্রাণী সংরক্ষণে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ আছে। এই আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী শিকারি, বিক্রেতা ও ক্রেতা সবাইকে জেল-জরিমানা করার বিধান রাখা আছে। এ বিষয়ে মামলা পরিচালনার জন্য সুন্দরবন এলাকায় আটটি বন আদালতও আছে। কিন্তু এসব আদালত থেকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার কোনো নজির নেই।

এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবনের চিত্রল হরিণ বিলীয়মান প্রজাতির বন্য প্রাণীর তালিকায় চলে যাবে। খেয়াল রাখা দরকার, সুন্দরবনের মতো সুবিস্তৃত বন পাহারার দায়িত্ব শুধু বন বিভাগের হাতে ছেড়ে দিলে হবে না। বন এলাকার মানুষেরও দায়িত্ব আছে। তাঁদেরও সচেতন হতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন