চাল সংগ্রহে সরকারের ব্যর্থতার কারণে বাজারে চালের দাম বেড়ে চলেছে। এখনই মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে। চালের এ দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো চালের এ চড়া দাম স্থিতিশীল নয়, ক্রমেই তা আরও বাড়ছে। মনে রাখা প্রয়োজন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, সবারই আয় কমেছে, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।

আর কোভিডের পাশাপাশি এবার ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুতরাং এ বছর নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষ মনোযোগ দাবি করছে। চাল যেহেতু আমাদের প্রধান খাদ্য এবং খাদ্যনিরাপত্তা বলতে সব মানুষের জন্য প্রধান চালের সহজ প্রাপ্যতাই বোঝানো হয়ে থাকে, সেহেতু সরকারের উচিত এ বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।

কিন্তু সরকারের খাদ্য বিভাগ চাল সংগ্রহের কাজে হতাশাব্যঞ্জকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এ বছর বোরো ধান ওঠার পর গত এপ্রিলের শেষ দিকে সরকার ধান-চাল সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে, তাতে প্রায় ১৬ লাখ টন চাল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু আগস্টের শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশও পূরণ হয়নি। ইতিমধ্যে চাল সংগ্রহের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কেন পূরণ হলো না, সে বিষয়ে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ভাষ্য হলো, চালকলমালিকেরা সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ না করায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। কিন্তু চালকলমালিকদের চুক্তি ভঙ্গ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিংবা তঁারা চালের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকারকে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহে গড়িমসি করছেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি।

চালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে কোভিডের কারণে আর্থিকভাবে বিপন্ন জনগোষ্ঠীর বিপন্নতা আরও বাড়বে। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, সরকারের চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে চাল আমদানি করা হবে। এই বিকল্প রাখা উচিত, তবে সরকারি গুদামে চালের মজুত পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়াতে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অবশ্যই পূরণ করা উচিত। তারপর আমদানির সুযোগও উন্মুক্ত রাখা উচিত। তবে চাল আমদানি প্রক্রিয়াও নিয়মিত তদারক করা উচিত, যাতে ২০১৭-১৮ সালের মতো মাত্রাতিরিক্ত চাল আমদানি করা না হয়। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে চাল আমদানি করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন