default-image

পরপর দুই দিন প্রতি ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের শতাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। ইতিমধ্যে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার পেরিয়ে গেছে। সংক্রমণের হার বাড়তে বাড়তে ২১ শতাংশ পেরিয়ে গেছে; প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির এ প্রবণতা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তাই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে সংক্রমণ প্রতিরোধের ওপর। আবারও লকডাউন ঘোষণার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সেই কারণেই।

কিন্তু সংক্রমণ প্রতিরোধ করার উদ্যোগ যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষা করার সর্বাত্মক চেষ্টা। সে জন্য চিকিৎসাব্যবস্থার সামর্থ্য ও দক্ষতা বাড়ানো এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ হাসপাতালগুলোর সব লোকবলের করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানেই বোধগম্য। কিন্তু এদিকে কারও কোনো বিশেষ দৃষ্টি আছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না।

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত কতজন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন, এ বিষয়ে কোনো হিসাব স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। একটি হিসাব রাখছে চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। তাদের হিসাবে এ পর্যন্ত ১৪১ চিকিৎসক কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর প্ল্যাটফর্ম অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, পরীক্ষার মাধ্যমে কোভিডে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত (কোভিড পজিটিভ), কোভিডে আক্রান্ত বলে সন্দেহভাজন (কোভিড ফলস নেগেটিভ) এবং কোভিড-পরবর্তী জটিলতায় এ পর্যন্ত ১৮৯ জন চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটেছে। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ভুগেছেন এবং ভুগছেন এমন চিকিৎসকের প্রকৃত সংখ্যা কত, সে বিষয়ে কোনো তথ্য কারও কাছে নেই।

বিজ্ঞাপন

আমাদের চিকিৎসকদের করোনা সুরক্ষার ব্যবস্থাটি দৃশ্যমানভাবে দুর্বলই রয়ে গেছে। যেসব চিকিৎসক কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত আছেন শুধু তাঁরা নন, নন-কোভিড সব ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকেরাও কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। কারণ, উপসর্গহীন সংক্রমিত মানুষেরা যখন বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন, তখন তাঁদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাঁদের সুরক্ষার জন্য যে মানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), মাস্ক ইত্যাদি প্রয়োজন, তার ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকদের করোনা সুরক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল তাদের চিকিৎসকদের জন্য এমনকি মাস্কেরও ব্যবস্থা করে না; চিকিৎসকেরা নিজেরাই মাস্ক কিনে ব্যবহার করেন।

সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের সব চিকিৎসাকেন্দ্রে কোভিড ও নন-কোভিড সব ধরনের রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট লোকবলের করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কায় অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাব্যবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। তার ফলে চিকিৎসার অভাবে রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। সে পরিস্থিতি কখনোই কাম্য হতে পারে না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন