default-image

বগুড়ার নিশ্চিন্তপুর-প্রতাপপুর ভায়া বামুজা পানদীঘি সড়কের এক কিলোমিটার অংশ পাকাকরণ ও কার্পেটিংয়ের কাজ পেয়েছিল তাজওয়ার ট্রেড সিস্টেম লিমিটেড। তারা কাজটি না করে স্থানীয় ঠিকাদার নুরুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়েছিল। তাঁর বড় যোগ্যতা তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পি এম বেলাল হোসেনের ভাতিজা। ফলে তিনি আইনকানুন বা কার্যাদেশের শর্ত কিছুই মানেননি।

প্রথম আলোর বগুড়া প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩০ মের মধ্যে সড়ক মেরামতের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দেড় বছর পর এসেও অনেক কাজ বাকি আছে। মাঝখানে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল।

এলজিইডির পক্ষে কাজটি তদারক করার কথা উপসহকারী প্রকৌশলী মাজিদ বিন জাহিদের। তিনি সরেজমিনে দেখেন, ২০১৯ সালে কাজ শুরু করা হলেও মাটি খুঁড়ে ইট-বালু ফেলে দীর্ঘদিন বেহাল ফেলে রাখা হয়েছে। কয়েক দফা তাগাদা দেওয়ার পর খোয়া ফেলে আবারও লাপাত্তা ঠিকাদারের লোকজন। দফায় দফায় তাগাদা দেওয়ার পরও কাজ শেষ করেননি। ফলে খোয়া বিছানো সড়কে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। গত শনিবার সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে বাধা দিতে গেলে ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে (মাজিদ বিন জাহিদ) এবং তাঁর সঙ্গে থাকা এলজিইডির কার্য সহকারী আবদুর রউফকে মারধর করেন। এ ধরনের মাস্তানি করার সাহস একজন ঠিকাদার পান কীভাবে?

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কাহালু থানায় মামলা হয়েছে। অন্যদিকে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, আসামি পলাতক, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কাহালু উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, তাজওয়ার ট্রেড সিস্টেম লিমিটেড একই দরপত্রে তিনটি কাজ পেয়েছিল। এর মধ্যে দুটি কাজ শেষ হয়েছে। প্রশ্ন হলো কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক মেরামতের কাজ পেয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিতে পারে কি না?

অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে থাকেন। এখানে উপসহকারী প্রকৌশলী মাজিদ বিন জাহিদ নিম্নমানের উপকরণ দেওয়ায় আপত্তি করায় ঠিকাদার তাঁকে মারধর করেছেন। এই মাস্তানি করার দুঃসাহস তিনি কোথায় পেলেন? উপসহকারী প্রকৌশলী মানসম্মত উপকরণ দেওয়ার কথা বলে কোনো অন্যায় করেননি।

নুরুল ইসলাম প্রথমত নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এর জন্য তাঁর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। দ্বিতীয়ত চুরি ধরায় তিনি উপসহকারী প্রকৌশলীর ওপর চড়াও হয়েছেন; এটি ফৌজদারি অপরাধ।

নুরুল ইসলামের দুই অপরাধের বিচার হতে হবে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এভাবে কেউ সরকারি কাজ বাগিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন