নিহত বিজ্ঞান লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় গত শুক্রবার এক সমাবেশে ঘাতকদের ধরতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি জঙ্গি দমনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একদিকে প্রায়ই গণমাধ্যমে জঙ্গিদের ধরা পড়ার খবর আসছে, অন্যদিকে তাদের নানামুখী তৎপরতা ও হুমকিও চলছে। তাহলে জঙ্গি দমনে সরকারের সাফল্যের দাবির যৌক্তিকতা কী?
চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার সময় রাজু চত্বরের কাছে একদল সন্ত্রাসী চাপাতি দিয়ে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে। এ সময় তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ গুরুতর আহত হলেও বেঁচে যান। ঘটনার চার মাস পরও অভিজিৎ হত্যাকারীরা যে শুধু ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন তা-ই নয়, ওয়াশিকুর ও অনন্ত বিজয় দাস নামে আরও দুজন লেখক-ব্লগারকে সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠী একই কায়দায় হত্যা করে। ওয়াশিকুরের দুই ঘাতককে প্রত্যক্ষদর্শীরা ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলেও তাদের সহযোগী বা নেপথ্যের হোতাদের খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি কোনো কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মাসে একজনকে খুন করার প্রকাশ্য ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে। এসব কিসের আলামত?
জঙ্গিগোষ্ঠী যেমন নতুন নতুন নামে আবির্ভূত হচ্ছে, তেমনি বিশিষ্ট নাগরিকদের তালিকা তৈরি করে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কারাগারে আটক আবু জান্দাল নামে এক জঙ্গিনেতা জেলের বাইরে থাকা কথিত আরেক আল-কায়েদা নেতাকে চিঠি লিখে বড় ধরনের নাশকতা ও সন্ত্রাসী পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছে। একজন কারাবন্দী এ ধরনের চিঠি লেখা ও হস্তান্তরের সুযোগ কীভাবে পেল? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই বা কী করছেন?
সরকারকে বুঝতে হবে, জঙ্গি সমস্যাটি কেবল আইনশৃঙ্খলাজনিত নয়। দেশে–বিদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। অতএব, জঙ্গিগোষ্ঠীকে সমূলে উৎপাটন করতে হলে এদের অর্থ ও অস্ত্রের সব উৎস যেমন কেটে ফেলতে হবে, তেমনি ভেঙে দিতে হবে দেশি–বিদেশি নেটওয়ার্কও। জঙ্গি দমনে সরকারের অভিযান তখনই সফল হবে, যখন তারা খুনিদের ধরে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে। প্রশ্ন হলো, সরকার সেই কাজটি করতে প্রস্তুত আছে কি?

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0