default-image

কেওড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড় থেকে ফখরুদ্দীন মোড় পর্যন্ত রাস্তাটা ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় তিন বছর। গাজীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এ রাস্তার আশপাশে থাকে ১৭ হাজারের মতো মানুষ। আর প্রতিদিন রাস্তাটি ব্যবহার করে কমবেশি ৫ হাজার লোক। এমন একটি রাস্তা সংস্কার হলে এলাকাবাসীর তো খুশি হওয়ারই কথা। সামনে বর্ষা, তার আগে কাজটা শেষ হয়ে গেলে তাদেরই তো ভোগান্তি কমবে। তাহলে সেই কাজ কেন বন্ধ করে দিল তারা? বিষয় কী?

বিষয় অতি পুরোনো। মানসম্মত সামগ্রী দেওয়ার কথা বলে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই সংস্কারের কাজটা সারছিলেন ঠিকাদার। আর সেটা করছিলেন মধ্যরাতে। কিন্তু জনগণ যে অতন্দ্রপ্রহরী, এটা বোধ হয় তাঁর জানা ছিল না। গভীর রাতেই মেরামতিস্থলে এসে হাজির হন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেখেন রেডিমিক্সে এমন পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে, হাতের চাপেই যা গুঁড়ো হয়ে যায়। যে পাথর হাতের চাপেই ভেঙে যায়, গাড়ির চাকার তলে পড়লে তার কী দশা হবে, তা সহজেই অনুমেয়। ফলে ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কাজটা বন্ধ করে দেয় জনগণ।

বিজ্ঞাপন

অধিক লাভের আশায় কাজে ফাঁকি দিতে পারেন ঠিকাদার, ব্যবহার করতে পারেন নিম্নমানের সামগ্রী। শুধু বাংলাদেশ কেন, যেকোনো দেশেই অসৎ ঠিকাদারেরা এমন সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তা যাতে না হয়, কাজে যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, দায়সারা কাজ করে যাতে পার পেয়ে না যান ঠিকাদার, তা দেখভাল করার জন্যই তো আছে সরকারি প্রকৌশলী। অথচ ন্যক্কারজনক ব্যাপার হচ্ছে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতেই কাজটা করছিলেন ওই ঠিকাদার। পরে জনগণের চাপে ‘নিম্নমানের রেডিমিক্স দেওয়া হচ্ছে’ বলে কাজ বন্ধ করে দেন তিনি।

এখন লাখ টাকার দামি প্রথম প্রশ্নটা হলো, রেডিমিক্সের উপাদান যে মানসম্মত নয়, জনগণের কাছ থেকে এটা তাঁকে বুঝতে হলো? প্রকৌশলবিদ্যায় এতই পারদর্শী হয়ে উঠেছে আমাদের জনগণ যে বছরের পর বছর পড়াশোনা করেও যেটা ধরতে পারেন না একজন কর্মকর্তা, এক দিন না পড়েও সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান খাটিয়েই সেটা পারে তারা! তার চেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হচ্ছে গাজীপুরের ঘটনাটাই একমাত্র নয়, গত কয়েক মাসে এ–জাতীয় আরও কয়েকটি সংবাদ আমরা ছেপেছি। বোঝা যাচ্ছে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের সততার ওপর আর ভরসা রাখতে পারছে না মানুষ। তদারকির কাজটা তাই নিজেরাই নিয়ে নিচ্ছে তারা। ঠিকঠাক কাজ না হলে ভোগান্তি যে তাদেরই হবে। নিম্নমানের কারণে সংস্কারের অল্প দিনের মধ্যে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে রাস্তাঘাট। তার চেয়ে বরং কাজ না হওয়াই ভালো—মনোভাবটা অনেকটা এই রকম।

আর দ্বিতীয় ও সর্বশেষ প্রশ্নটা হলো, জনগণই যদি তদারক করবে, তাহলে প্রকৌশলীর কাজটা কী?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন