চাই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও

জলাতঙ্ক নির্মূলে টিকা

বিজ্ঞাপন

মাগুরায় গত রোববার অনুষ্ঠিত এক সভায় জানানো হয়েছে, জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর—এই পাঁচ দিনে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ কুকুরকে টিকা দেওয়া হবে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ।

জলাতঙ্ক ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। মূলত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে এ রোগ ছড়ায়। এই রোগকে হাইড্রোফোবিয়া বা পাগলা রোগও বলা হয়। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি পানি দেখলেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রতিবছর জলাতঙ্ক রোগে বহু মানুষ মারা যায়। কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সরকারের পক্ষ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের অংশ হিসেবে কুকুরকে টিকা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। অতীতে বর্বর কায়দায় কুকুর নিধন করা হতো। এভাবে কুকুর নিধনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা দূর করতে প্রাণী কল্যাণ আইন কার্যকর হওয়ায় এর কোনো সুযোগও নেই। ফলে কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণীটি যাতে কোনোভাবেই জনস্বাস্থ্য ও জনদুর্ভোগের কারণ না হয়, সেদিকে মনোযোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সহজেই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।

তবে কুকুরকে শুধু জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বন্ধ্যা করার কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এটা জরুরি। তা না হলে কুকুরের বংশ বৃদ্ধি ঘটতেই থাকবে, যা জলাতঙ্ক দূর করার টিকাদান কর্মসূচিকে ব্যাহত করতে পারে। একটি এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে খাবারের অভাব ও ভারসাম্যের সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত প্রাণী কল্যাণ নিয়ে কাজ করে—এমন সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া। উন্নত বিশ্বে বেওয়ারিশ বা পথ-কুকুরদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামাজিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এভাবে বেওয়ারিশ কুকুরেরাও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে।

চলতি বছর সংসদে পাস হওয়া ‘প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯’ অনুযায়ী কোনো প্রাণী হত্যা করলে ছয় মাসের জেল অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে প্রাণীর প্রতি যেকোনো ধরনের নিষ্ঠুরতা মোকাবিলা করা সম্ভব। চুয়াডাঙ্গায় কুকুরকে টিকা দেওয়ার যে কর্মসূচি চালু হয়েছে, তা সারা দেশে কার্যকর করা গেলে কুকুরের প্রতি নিষ্ঠুরতা যেমন কমে আসবে, তেমনি জনগণও জলাতঙ্ক রোগের বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন