default-image

এই সেদিনও সিলেটের বাইরে রাতারগুলের নাম জানত না ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। আর এখন তো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পটের একটা রাতারগুল। সেই জনপ্রিয়তার মাত্রা এতটাই যে পর্যটকের ভিড়ে ধ্বংস হতে বসেছে গোয়াইনঘাটের এই জলাবনটির পরিবেশ ও প্রতিবেশ। মনে হচ্ছে লক্ষ্মীবাউরেরও একই পরিণত হবে।

বলা হচ্ছে, আয়তনে লক্ষ্মীবাউর রাতারগুলের চেয়ে বড়। দাবি সত্য হলে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় জলাবন। হবিগঞ্জ থেকে বানিয়াচং ১২ মাইল। এই বানিয়াচংয়ের আদর্শ বাজার থেকে পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে খড়তি। নদীটির দক্ষিণে বিরাট এক হাওরের মধ্যে এই জলাবন। বর্ষাকালে দূর থেকে মনে হয় পানিতে ভাসমান অপরূপ এক বন, শুকনা মৌসুমে আবার অন্য চেহারা, এলাকাবাসীর কাছে খড়তির জঙ্গল নামে পরিচিত এই বনে দিব্যি চরে বেড়াচ্ছে গরু–ছাগল। এই বনে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপের বাস, আর আছে জলার গাছ হিজল, হাজারে হাজার।

বিজ্ঞাপন

দুর্গম হওয়ায় বনটার খবর বাইরের মানুষ আগে তেমন একটা জানত না। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় এই জলাভূমি দেখতে এখন প্রতিদিনই আসছে শত শত পর্যটক। সামনে যোগাযোগব্যবস্থা আরও ভালো হবে। আদর্শবাজার থেকে পাহাড়পুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমার্সিবল সড়ক হচ্ছে। লক্ষ্মীবাউরের মধ্য দিয়েই এটি যাবে। আর লোহাচূড়া নদীর ওপর ব্রিজ হয়ে গেলে আরও সহজ হবে যোগাযোগ। পর্যটকদের থাকা–খাওয়ার তেমন কোনো ব্যবস্থাও বর্তমানে এখানে নেই। তবে প্রশাসন বলছে, বসার শেড, শৌচাগার করা হবে। ফলে সহজেই অনুমেয়, সামনে পর্যটকদের একটা ঢল নামবে। লক্ষ্মীবাউর হয়ে উঠবে হট পিকনিক স্পট। এখনই যার লক্ষণ স্পষ্ট। নির্বিচারে বনে ঢুকছে পর্যটকের দল, যেখানে–সেখানে আগুন জ্বালিয়ে রান্না হচ্ছে, উচ্চ শব্দে বাজানো হচ্ছে গানবাজনা, প্রতিনিয়ত নোংরা হচ্ছে বন। হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।

আরেকটা বড় সমস্যা দখল। এই বনের পুরোটাই খাসজমি হলেও নানা উপায়ে ব্যক্তিমালিকানায় চলে গেছে অনেক জায়গা। অনেক জায়গা নিয়ে মামলা চলছে। এই আইনি জটিলতার ফাঁক দিয়ে ইজারা দেওয়া হচ্ছে জলাশয়, নির্বিচার কাটা হচ্ছে গাছ, গাছের ডালপালা। সত্যি বলতে কি, বনে এখন অক্ষত গাছ খুঁজে পাওয়াই কঠিন, অধিকাংশই ন্যাড়া। ধীরে ধীরে এভাবে কমে আসছে বনের পরিধি।

লক্ষ্মীবাউর পর্যটন ও বনজ সম্পদ আহরণকে তাই নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে বেওয়ারিশ বনটাই হয়তো একসময় ‘নাই’ হয়ে যাবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন