বাংলাদেশে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে—এ খবর ইতিমধ্যে এ দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সহিংসতা বন্ধ হওয়া দূরের কথা, হতাহত মানুষের তালিকা প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমে জানা গেল, এ দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক (সাবেক) সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে। এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিবদমান দুই পক্ষের চরম বৈরিতাপূর্ণ অটল অবস্থানের ফলে যে হতাশাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের এসব তৎপরতার খবর নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।
সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে তারানকোতবে আমাদের স্মরণ আছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ‘একতরফা’ নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তারানকো বাংলাদেশে এসে দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনতে যে প্রয়াস নিয়েছিলেন, তা সফল হয়নি। সে জন্য কোন পক্ষের কতটা দায় ছিল, সে হিসাবে না গিয়ে নিঃসন্দেহে বলা যায়, তখন যদি একটা সমঝোতা হতো, তাহলে ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচন আমরা এড়াতে পারতাম এবং আজকের এই সহিংস পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পেত। কিন্তু তা হয়নি বলে একতরফাভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তা প্রতিহত করার সহিংস প্রচেষ্টায় শতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। আর চলমান সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৮৭ পেরিয়েছে এবং সহিংসতা অব্যাহত আছে।
অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত: বৈরিতা ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে কোনো পক্ষই উপকৃত হতে পারে না, ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোটা জাতি। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চার বিকল্প নেই; সংলাপ-আলোচনা, দর-কষাকষি ও বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সব সংকটের সমাধানে পৌঁছা সম্ভব। দুই বিবদমান পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি করানোর ব্যাপারে জাতিসংঘসহ দেশি–বিদেশি সব উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্টদের শুভবুদ্ধির উদয় ঘটুক।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন