বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর টানা অবরোধ, হরতালের কর্মসূচি, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা ও সহিংসতা-নাশকতায় দেশ আজ বিপর্যস্ত। আর এসব দমন করতে গিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং সেই সুযোগে গ্রেপ্তার-বাণিজ্য ও নাগরিক হয়রানির ঘটনা ঘটছে। অবরোধের ৩৫ দিন ৮৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিক সমাজ একটি জাতীয় সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি আলাপ-আলোচনার পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই এর লক্ষ্য। এখন পর্যন্ত যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে সংলাপ, বর্তমান সংকটের সমাধান ও অন্যান্য বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য কিছু পরামর্শসহ একটি সনদ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এ ধরনের একটি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এর সফলতার বিষয়টি নির্ভর করবে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ওপর।
জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ বিশিষ্ট নাগরিকদেরদুই পক্ষকেই এটা মানতে হবে যে এই সমস্যা সমাধানে আলাপ-আলোচনার পথই বেছে নিতে হবে এবং অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার সদিচ্ছা ও মানসিকতা থাকতে হবে। এ জন্য প্রথমেই অবরোধের মতো কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে হবে, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা বন্ধ করতে হবে। আন্দোলনের নামে নাশকতা চলতে পারে না।
অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার বন্ধ ও যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ নেই, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। নাশকতা দমনের নামে বিচারবহির্ভূতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী হত্যা বন্ধ করতে হবে। বিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকার দিতে হবে। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, জাতীয় সংলাপের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ থেকেই একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং একটি কার্যকর সংলাপের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আমরা আশা করব, দেশ ও এর জনগণের স্বার্থে দুই পক্ষই শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন