গত সপ্তাহে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজি মূসকসহ ১ হাজার ৩১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা করা হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও অনেক বিক্রেতা বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেসরকারি খাতে প্রতি কেজি এলপিজির নতুন দাম ১০২ টাকা ৩২ পয়সা। এ হিসেবে বিভিন্ন পরিমাণের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হওয়ার কথা। এ ছাড়া গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৫৭ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগে ছিল ৬১ টাকা ১৮ পয়সা। এটা কার্যকর হলে ভোক্তাসাধারণ কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করবেন।

এলপিজির দাম কমানোয় সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হবে বলে দাবি করে বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসির) চেয়ারম্যান বলেছেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারে যে পরিমাণ দাম কমেছে, তা দিয়ে একটি পরিবার অন্তত দুই কেজি চাল কিনতে পারবে। কিন্তু তিনি বলেননি যে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যে কৃষকেরা শস্য উৎপাদনে সেচযন্ত্র ব্যবহার করেন, তাঁদের খরচ কত বেড়ে যাবে। সেচের খরচ বাড়লে কৃষির উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। বিইআরসি গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে জনগণের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। তারা একতরফাভাবে দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর অজুহাতে গণপরিবহনের ভাড়াও বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

ছয় বছর ধরে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে জ্বালানি কিনে জনগণের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকার লাভ করেছে। অন্যদিকে গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বাড়তেই সরকার লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। সে সময়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তাঁরাও পুনর্বিবেচনা করবেন। জাতীয় সংসদের গেল অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সদস্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে বাংলাদেশেও কমানো হবে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতির দিকে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নতুন করে বাড়ার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম কমানো। অন্তত ৩ নভেম্বরের আগের অবস্থায় নিয়ে আসা হোক।