কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিশন ভবিষ্যতে এ ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যে ১৮ দফা সুপারিশ করেছিল, সেগুলোর কোনোটাই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জের তিতাস কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে তাদের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় গ্যাসের অনেক পুরোনো পাইপলাইন আছে, সেগুলোতে ছিদ্র থাকতে পারে। কিন্তু সেসব ছিদ্র বন্ধ করার কিংবা জীর্ণ-পুরোনো পাইপলাইনগুলো প্রতিস্থাপনের নিয়মিত কোনো ব্যবস্থা নেই। বলা হয়েছে, লিকেজের খবর পেলে তা দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এই বক্তব্যও যে সত্য নয়, তার একটি প্রমাণ বাইতুস সালাত জামে মসজিদের বিস্ফোরণ। কারণ, ওই এলাকার বাসিন্দারা বিস্ফোরণের আগে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের গন্ধ পেতেন, তাঁরা একাধিকবার সে কথা তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিতাস কর্তৃপক্ষ তাঁদের আবেদনে ভ্রুক্ষেপ করেনি। বিস্ফোরণে ৩৭ জন মারা যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হওয়ার পরেই শুধু তাদের টনক নড়ে।

শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, আরও অনেক এলাকায় তিতাসের গ্যাসের পাইপলাইনগুলো এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে। আবারও কোথাও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটার আগেই তিতাস কর্তৃপক্ষের উচিত, তাদের সব এলাকার পুরোনো সব পাইপলাইনের ছিদ্র বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া।