default-image

আমাদের প্রিয় ঢাকা মহানগরের কেব্‌ল টিভি ও ইন্টারনেট সংযোগের তার যে একটা সময়ে মহানগরজুড়ে দৃষ্টিকটু ও ঝুঁকিপূর্ণ জট তৈরি করতে পারে, ভাবনাটি আগে তেমন গুরুত্ব পায়নি। ২০০৯ সালে এসে বিটিআরসি মাটির নিচ দিয়ে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটর হিসেবে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের অনুমতি দেয়। পরে সরকারি-বেসরকারি আরও চারটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে একই অনুমতি দেওয়া হয়।

কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময়ে সংযোগের তারগুলো মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার কাজে বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয়নি। গতকাল প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহকদের বাসাবাড়ি পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে তার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে মাত্র ৬০০০ পয়েন্টে। কিন্তু এ মহানগরে প্রায় ১০ লাখ স্থাপনায় সংযোগের তার পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ ব্যবস্থা নিতান্তই অপ্রতুল। সমস্যা হলো এ ছয়টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ছাড়া মাটির নিচ দিয়ে তার পৌঁছে দেওয়ার অবকাঠামো তৈরির অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হলো, ঝুলন্ত সব সংযোগের তার মাটির নিচে সরিয়ে নিতে হবে, নইলে সেগুলো কেটে দেওয়া হবে। একপর্যায়ে তার কাটার অভিযানও শুরু করা হলো। তার প্রতিবাদে পাড়া-মহল্লায় ইন্টারনেট ও কেব্‌ল টিভি নেটওয়ার্কের সেবা প্রদানকারীরা ধর্মঘটের ডাক দিলেন। শেষে তাঁদের বলা হলো আর কোনো তার কাটা হবে না; তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলেন। অবস্থার কোনোই পরিবর্তন ঘটল না।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর হলো, মহানগরের তারের জঞ্জালগুলো আপাতত সরছে না। তবে সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার তাগিদ লক্ষ করা যাচ্ছে। গত মাসে বিটিআরসিতে সব পক্ষের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে তার সরানোর কাজগুলো শুরু হতে পারে। যেমন এক. যেসব এলাকায় গ্রাহক প্রান্ত পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে সংযোগের ব্যবস্থা আছে, সেখানে ঝুলন্ত তার নামিয়ে ফেলতে হবে। দুই. যেসব এলাকায় তা নেই, সেখানে মাটির নিচ দিয়ে লাইন বসাতে সেবাদাতারা এনটিটিএন অপারেটরকে বলবে। তারা সাত দিনের মধ্যে সেবাদাতাকে জানাবে তারা এ কাজ করবে কি না। না করলে ইন্টারনেট সেবাদাতাকেই তিন মাসের মধ্যে মাটির নিচ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার বসিয়ে তাদের ঝুলন্ত তার সরিয়ে মাটির নিচে নিয়ে যেতে হবে। তিন. ইন্টারনেট সেবাদাতারা মাটির নিচের তার ব্যবহারের জন্য এনটিটিএন অপারেটরদের জন্য মাশুল দেবে, সেই মাশুলের হার কিসের ভিত্তিতে কত হবে, তা তারাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নির্ধারণ করবে।

আমাদের মনে হয়, প্রথম সিদ্ধান্তটি অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য এবং এখন তা করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কিন্তু দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি অসংগতিপূর্ণ, কারণ এনটিটিএন অপারেটর না করলে ইন্টারনেট সেবাদাতাকে করতে হবে, যা এনটিটিএন অপারেটরদের এ কাজ এড়ানোর সুযোগ করে দেবে। তারা এমনিতেই এটা করতে চায় না, কারণ এ কাজ প্রচুর বিনিয়োগসাপেক্ষ। একই কারণে ইন্টারনেট সেবাদাতারা বাড়তি খরচ এড়াতে মাটির ওপর দিয়েই তারের সংযোগ দেওয়া অব্যাহত রাখবে। ফলে কোনো কাজ না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। মাটির নিচের তারসংযোগ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুধুই লাইসেন্সপ্রাপ্ত এনটিটিএন অপারেটদের হাতেই থাকা উচিত এবং সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তাদের সময় বেঁধে দেওয়া উচিত। তৃতীয়ত, মাটির নিচের সংযোগ অবকাঠামো ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত সরকারের পক্ষ থেকে। কারণ, দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে আমাদের মনে হয় না।

মন্তব্য করুন