বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় এবার ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। সেই সুযোগে একশ্রেণির পরিবহনমালিক ভাড়াও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। যদিও উন্নত দেশগুলোতে এ রকম উৎসব আয়োজনে ভাড়া কমানো হয়। কয়েক মাস ধরেই অনেক সড়কে মেরামতকাজ চলছিল। ঈদের আগে সেগুলো শেষ করতে পারলে মানুষের ভোগান্তি কমত। কিছু কাজ বাকি থাকা সত্ত্বেও ঈদের আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের দুটি উড়ালসড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে।

ঈদের আগে রেলওয়েতে ৩০টি মিটারগেজ ও ১৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ যুক্ত করা ইতিবাচক। অন্যদিকে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কমলাপুর স্টেশনে এসে অপেক্ষা করতে হয়েছে ঈদের টিকিটের জন্য। যাঁরা টিকিট পেয়েছেন, তাঁরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেছেন। কিন্তু যাঁরা টিকিট পাননি, তাঁরা কী করবেন? একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বের করা হোক, যাতে যাত্রীরা ঘরে বসে ট্রেন, বাস ও লঞ্চের টিকিট পেতে পারেন।

আমাদের সড়ক পরিবহনব্যবস্থায় এখনো চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য চলছে। চালকেরা বেশি মুনাফার জন্য বেপরোয়া গতিতে বাস চালিয়ে থাকেন, যা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে থাকে। একই সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহন চলাচল করায় বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। এবার ঈদযাত্রার প্রথম দুদিন যাত্রীরা হোঁচট খেয়েছেন সময়মতো ট্রেন না ছাড়ার কারণে। তদুপরি ট্রেনের ছাদে চড়েও মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যেভাবে লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে, তা–ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ঈদযাত্রায় সবচেয়ে দুশ্চিন্তা ফেরি পারাপার নিয়ে। ফেরির বিলম্বের কারণে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে পদ্মার দুই পারে। প্রতি ঈদে একই অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে টেকসই কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।

রাতারাতি ভাঙাচোরা সড়কগুলো হয়তো মেরামত করা যাবে না। নতুন বাস, লঞ্চ, ফেরিও নামানো যাবে না। কিন্তু সড়ক, রেল ও নৌপথে টহল এবং নজরদারি বাড়িয়ে ঈদযাত্রা সহনীয় করা যায়। সংশ্লিষ্ট সবাই আইন মেনে যানবাহন চালালে ঈদযাত্রা ও ফিরে আসা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন না হলেও যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন