বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ টিকাদানে পিছিয়ে আছে, এই তথ্য আমাদের জন্য মোটেই স্বস্তিকর নয়। ভারত ইতিমধ্যে ১০০ কোটি ডোজ টিকা দিয়েছে। নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে আছে। টিকা সংগ্রহে পিছিয়ে থাকার কারণ, শুরুতে একটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকা; ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে তিন কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের চুক্তি হয় ২০২০ সালের শেষ দিকে। যদিও তারা প্রতিশ্রুত টিকা সরবরাহ করতে পারেনি দেশটিতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে। ভারত সরকার টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর প্রথম চালান এসেছে সম্প্রতি; বাকি টিকা কবে আসবে, নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কোনো পক্ষ। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশ থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করে। এর মধ্যে চীনের সিনোফার্ম থেকেই বেশি টিকা এসেছে। আমরা কোভ্যাক্স ও ফাইজার থেকেও কিছু টিকা পেয়েছি। কিন্তু চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনো যোজন যোজন ফারাক। অক্টোবরে তিন কোটি ডোজ টিকা আসার কথা ছিল; পেয়েছি অনেক কম। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, শিগগিরই প্রচুর পরিমাণ টিকা এসে পৌঁছাবে।

টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই ধীরগতির কারণ, রপ্তানিকারক দেশ ও কোভ্যাক্স দ্রুত চাহিদামাফিক টিকা সরবরাহ করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন ভূরাজনীতির শিকার না হয়, সে বিষয়েও দৃষ্টি রাখতে হবে। করোনা যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা, সেহেতু টিকা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশগুলো অন্যদের বঞ্চিত করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত নন যে টিকার কার্যকারিতা কত দিন থাকবে কিংবা বুস্টার ডোজ দেওয়ার প্রয়োজন হবে কি না। যদি এর কার্যকারিতা দীর্ঘস্থায়ীও হয়, বুস্টার ডোজের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। আর কার্যকারিতা স্বল্পমেয়াদি হলে দ্রুত বুস্টার ডোজ দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরকারতে টিকা সংগ্রহ করার চেষ্টা জোরদার রাখতে হবে। আর সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নিজেদের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের বিকল্প আছে বলে মনে হয় না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন