default-image

আজ থেকে সারা দেশে করোনার টিকা দেওয়ার যে কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে এবং সে কারণেই দ্রুত এ কর্মসূচি শুরু করা যাচ্ছে। কিন্তু টিকাদান কর্মসূচির প্রস্তুতি, টিকা নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিবন্ধন, জনগণের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহ এবং এ নিয়ে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে অনেক ঘাটতি ও সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এ দিকগুলোতে নজর দিতে না পারলে এ কর্মসূচি সফল করা কঠিন হবে।

বাংলাদেশের কাছে বর্তমানে ৭০ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে, যা দিয়ে ৩৫ লাখ লোককে টিকা দেওয়া সম্ভব। গতকাল শনিবার সরকারের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এ পর্যন্ত মাত্র তিন লাখ লোক টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। যে বৈশ্বিক মহামারি আমাদের বিপর্যস্ত করে ফেলেছে, যে করোনাভাইরাসের টিকার জন্য বিশ্বব্যাপী এত অধীর অপেক্ষা, সেই টিকা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে এ স্বল্পসংখ্যক লোকের নিবন্ধনের বিষয়টি বিস্ময়কর।

বিজ্ঞাপন

এখানে নিশ্চিতভাবেই গুরুতর সমস্যা রয়েছে। নিবন্ধনের পদ্ধতি নিয়ে জটিলতার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বের হয়েছে। ঢাকা শহরের শিক্ষিত নাগরিকদের অনেকেই যেখানে নিবন্ধনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বা সমস্যায় পড়েছেন, সেখানে সারা দেশে সাধারণ মানুষের কথা সহজেই অনুমেয়। প্রযুক্তিগত কারণে দেশের জনগণের একটা বড় অংশের পক্ষেই ব্যক্তিগতভাবে এবং নিজ উদ্যোগে রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগসহ প্রযুক্তির সুবিধা কম, সেখানে বর্তমান পদ্ধতির নিবন্ধন খুব কাজে দেবে না।

নিবন্ধিতদের মধ্যে আজ যাঁরা টিকা নেবেন, তাঁরা তা নিশ্চিত হতে পারবেন গতকাল শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে পাওয়া এসএমএসের মাধ্যমে। আগের দিন সন্ধ্যায় জেনে পরদিন অনেকের পক্ষে টিকা নেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। কে কোন দিন টিকা নিতে পারবেন, তা দু-তিন দিন আগে জানানো উচিত, যাতে সে অনুযায়ী তিনি প্রস্তুত থাকতে পারেন।

তা ছাড়া টিকা নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে জনমনে একধরনের ভয়ভীতি কাজ করছে এবং সে কারণে অনেকে টিকা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এসব বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের তরফে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এ টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে যে প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন ছিল, সেখানে বড় ঘাটতি রয়েছে। পোলিওর মতো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে যে প্রচার-প্রচারণা দেখা যায়, তার সঙ্গে তুলনা করলে বলা যায়, এ কর্মসূচি নিয়ে কার্যত কোনো প্রচার-প্রচারণাই হয়নি। এটা কি ইচ্ছা করেই হয়নি? এর সঙ্গে যুক্ত নীতিনির্ধারকদের কাছে এর জবাব কী?

এটা স্পষ্ট যে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনাগত ক্ষেত্রে বড় সমস্যা রয়ে গেছে। অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মকাণ্ড এবং এর সঙ্গে বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশা করব, করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির শুরুতে যে সমস্যাগুলো ধরা পড়ছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে টিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ও ভয়ভীতি না থাকে, তা দূর করতে হবে। প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন