default-image

এটা বেশ আনন্দের বিষয় যে অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ আগেই করোনাভাইরাসের টিকা পেয়েছে এবং টিকাদানের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। যেহেতু কোভিড-১৯ রোগের নিরাময় নিশ্চিত করার মতো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনো উদ্ভাবিত হয়নি, সেহেতু এই অতিসংক্রামক মহামারি প্রতিরোধই হওয়া উচিত প্রথম অগ্রাধিকার। সংক্রমণ বিস্তার রোধের কার্যকর উপায়গুলো, যেমন সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, মুখে মাস্ক পরা, ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় জনঘনত্বপূর্ণ এ দেশে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টিকাই সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রধান সুযোগ নিয়ে এসেছে। এখন আমাদের প্রয়োজন এ সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ এবং কেনা ৫০ লাখ ডোজ মিলিয়ে মোট ৭০ লাখ ডোজ টিকা আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন এবং প্রথম দুই দিনে ৫৬৭ জন টিকা নিয়েছেন। পাশাপাশি সারা দেশে টিকা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৩৬ জেলায় টিকা পৌঁছে গেছে এবং ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্য সব জেলায় পৌঁছে যাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

টিকা গ্রহণের বিষয়ে প্রথমে কিছু ভীতি-সংশয়ের কথা শোনা গিয়েছিল, কিন্তু এখন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ বিষয়ে মানুষের আস্থা বাড়ছে। এ পর্যন্ত যাঁরা টিকা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের কারও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ বাড়াবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। ব্যবস্থাপনার সুবিধা ও প্রয়োজন বিবেচনায় টিকা গ্রহণকারীদের অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে করোনাযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা তথা চিকিৎসক-নার্সসহ মোট ১৫টি পেশাজীবী শ্রেণির মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। শনিবার পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ অসম্পূর্ণ ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে। আমরা আশা করব, এ কাজ ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সুসম্পন্ন করা হবে।

সারা দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য পেতে হলে এ কর্মসূচির সার্বিক সুব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রথম কাজ হলো টিকা সম্পর্কে সব নেতিবাচক ধারণার প্রচার বন্ধ করার মাধ্যমে টিকার প্রতি ভীতি-সংশয় দূর করে আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরালো করা। এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে টিকা গ্রহণকারী চিকিৎসকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকাশ্য ইতিবাচক বক্তব্য ফলপ্রসূ হবে। সংবাদমাধ্যম দৃশ্যত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই তুলে ধরছে।

টিকার সুফল পাওয়ার জন্য এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন রাখতে টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহনের প্রতিটি স্তরে বিজ্ঞানভিত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য বিদেশ থেকে টিকা এনে ঢাকায় সংরক্ষণ থেকে শুরু করে টিকাদান কেন্দ্র পর্যন্ত ‘কোল্ড চেইন’ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এদিকে নিবিড় নজরদারি একান্ত প্রয়োজন। আর সব টিকা গ্রহণকারীকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার আট সপ্তাহ পর যেহেতু দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে, সেহেতু প্রত্যেকের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের সময় যেন সব স্থানে পর্যাপ্ত টিকার মজুত থাকে, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। টিকা গ্রহণকারীদেরও অতিশয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে যে দ্বিতীয় ডোজ টিকা না নিলে প্রথম টিকা কার্যকর প্রমাণিত না-ও হতে পারে এবং তাহলে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন