প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সারা দেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ে ৯২ হাজার ৬৮৮টি পরিবারের মধ্যে টিসিবির পণ্য কেনার কার্ড বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার কার্ড। সেই কার্ড পেয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, শহরে যাঁর কিনা বহুতল ভবন আছে। আরেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাইও সেই কার্ড পেয়েছেন। কার্ড পেয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনেও দাঁড়িয়েছেন বহুতল ভবনের আরেক মালিক। ঠাকুরগাঁও শহরে টিসিবির কার্ড এখন রীতিমতো তামাশার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপকারভোগী নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের সূচক বিবেচনায় রেখে টিসিবির কার্ড কারা পাবেন, তার তালিকা তৈরি করার কথা। কিন্তু ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় নীতিমালা ভেঙে চলমান এ কর্মসূচির তালিকায় আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, সময় কম থাকায় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে এমন কিছু ভুলভ্রান্তি ঘটেছে। কিন্তু স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, এখানে ভুলভ্রান্তি হয়নি, বরং জেনেবুঝেই সচ্ছল লোকদের টিসিবির কার্ড দেওয়া হয়েছে। এখানে অনিয়মই ঘটেছে। এর দায় পৌরসভার মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরই নিতে হবে।

করোনাকালে আমরা দেখেছি, দরিদ্র মানুষের জন্য বিতরণকৃত চাল, তেল কীভাবে হরিলুট হয়েছিল। অনেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর মোবাইলে আর্থিক সহায়তা দিতে গিয়েও অনিয়মের কারণে সেটি বাধাগ্রস্ত হয়। অতীতের এমন অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেন এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া যাচ্ছে না? স্থানীয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। অসচ্ছল মানুষেরা এ মুহূর্তে অনেক কষ্টে আছেন, তঁাদের জন্য দেওয়া সরকারি সুবিধা কোনোভাবেই যাতে অন্যরা না পায়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতেই হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন