তখন বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, এই রুটে পর্যায়ক্রমে ১০০টি বাস নামবে এবং ২০২৩ সালের মধ্যে পুরো ঢাকায় এই সেবা চালু হবে। কিন্তু দেখা গেল, পর্যায়ক্রমে বাসসংখ্যার বদলে উল্টো আরও কমেছে। যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ফিরে আসছেন।

গণপরিবহনকে একটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে আনলে বাসে বাসে প্রতিযোগিতা রোধ হবে, দুর্ঘটনা কমবে এবং শৃঙ্খলাও ফিরবে—এমন চিন্তা থেকে ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক এমন গণপরিবহন সার্ভিসের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রায় ছয় বছর পর উদ্যোগটির আংশিক বাস্তবায়ন করা হলেও এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে অব্যবস্থাপনা।

বেসরকারি কোম্পানি তাদের ২০টি বাসই তুলে নিয়েছে। বিআরটিসির বাসও কমেছে। বাসচালকেরা নিয়মিত বেতন পান না। চালকদের বেশি ডিউটি করতে হয়। বিআরটিসির দোতলা বাসগুলোতে চালকের কোনো সহযোগী নেই। বেসরকারি কোম্পানি ও চালকদের ভাষ্য, বাস চালুর আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষা করা হয়নি।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, তাঁদের হাতে আরও বাস রয়েছে। সেগুলো এই রুটে নামানোর চেষ্টা তাঁরা করছেন। এ ছাড়া রাজধানীর আরও তিনটি রুটে ২২৫টি বাস নামানো হচ্ছে বলে ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছে।

এখন পরীক্ষামূলক রুটেই সার্ভিসটি মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে, সেখানে নতুন আরও বাস নামানোর যৌক্তিকতা আমরা দেখি না। শুধু প্রতিশ্রুতি আর আশার বাণী শুনিয়ে ঢাকার গণপরিবহন সমস্যার সমাধান করা যাবে না। সেগুলো কার্যকর করা, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে টেকসই করার কোনো বিকল্প নেই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন