পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট ছোট ট্রলারে যেভাবে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে, তা ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মর্মান্তিক কোনো দুর্ঘটনা। অথচ এই রুটে ট্রলারে যাত্রী পারাপার ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকাশ্যে এই অবৈধ কাজ হচ্ছে কীভাবে? যাদের তা ঠেকানোর কথা, তারা করছে কী?
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া থেকে দুই দিকেই ইঞ্জিনচালিত ছোট ছোট নৌকায় করে যাত্রী পারাপার হচ্ছে। লঞ্চের তুলনায় ভাড়া ও সময় উভয়ই কম লাগায় যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করছে।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপারগত রোববার দুপুরে পাটুরিয়ার কাছে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ৭৮ জনের মতো যাত্রী প্রাণ হারিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এই মর্মান্তিক ঘটনাও কারও টনক নড়াতে পারেনি। তা হলে ছোট ছোট ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এভাবে পারাপারের ঘটনা ঘটত না। আরিচা নৌপরিবহন ও বন্দর কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এভাবে যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণ অবৈধ। আর পাটুরিয়া নৌ–পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রলারে যাত্রী পরিবহনের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, বিষয়টি বন্দর কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। নৌপরিবহন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘খোঁজখবর’ নিয়ে নাকি ট্রলার চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই হচ্ছে দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তার বক্তব্য।
যেখানে প্রকাশ্যে ট্রলারে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে, সেখানে ‘খোঁজখবর’ নেওয়ার কী আছে। সাংবাদিকের চোখে যা পড়ে, তা পুলিশ বা নৌ কর্তৃপক্ষের চোখে কেন পড়ে না, কেন তাদের ‘খোঁজখবর’ নিতে হয়? স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশেই যে এসব ঘটছে, তা স্পষ্ট।
অবিলম্বে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে এই ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলারে যাত্রী বহন বন্ধ করতে হবে। তা করতে ব্যর্থ হলে এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন