বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে নিরীহ যাত্রীদের হতাহত করে পৈশাচিক সুখ লাভের প্রবণতার সঙ্গে সাপের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। যে ব্যক্তি চলন্ত টেনে প্রচণ্ড গতিতে পাথর ছুড়ে মারেন, তিনি এটি উপলব্ধি করতে পারেন না, তাঁর ছোড়া পাথরের আঘাতে এমন একজন নিরপরাধ মানুষ আহত বা নিহত হতে পারেন, যাঁর সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা নেই, যাঁর আহত বা নিহত হওয়ায় তাঁর বিন্দুমাত্র স্বার্থ লাভ হবে না। কিন্তু এই অবিবেচনাসুলভ কাণ্ডটি বছরের পর বছর ঘটে আসছে। কোনোভাবে এর রাশ টেনে ধরা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জসিম উদ্দিন (৪০) নামের ভ্রাম্যমাণ পণ্যের একজন হকার চলন্ত ট্রেনে ছোড়া ঢিলে গুরুতর আহত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঘাচং স্টেশন এলাকায় তিতাস কমিউটার ট্রেনে এই ঘটনা ঘটেছে। এর আগে পাথরের আঘাতে যাত্রীর চোখ হারানোর বহু ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রাণহানিরও নজির আছে। এর পাশাপাশি ট্রেনের জানালার কাচ ভাঙছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হিসাবমতো, গত পাঁচ বছরে ট্রেনে পাথর ছুড়ে দুই হাজারের বেশি জানালা-দরজা ভাঙার ঘটনা ঘটেছে।

চলন্ত ট্রেনের দিকে পাথর ছোড়ার এসব ঘটনায় চিন্তায় পড়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পুলিশও শত চেষ্টা করে পাথর ছোড়া বন্ধ করতে পারছে না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে ভূমিকা রাখতে হবে।

দু–একটি ঘটনার পেছনে হিংসাত্মক মনোভাব থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মূলত রেললাইনের পাশে বসবাসকারী কম বয়সী ছেলেরা খেলার ছলে এমন কাজ করে থাকে। এ কারণে শুধু আইনি পথে এই সমস্যার সমাধান হবে না। যেসব এলাকায় এই প্রবণতা বেশি, সেসব এলাকায় মাইকিং করা, পোস্টার সাঁটানো ও লিফলেট বিলি করার মতো কার্যক্রম হাতে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সতর্ক হতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন