default-image

সব দেশে ট্রেনকে সবচেয়ে নিরাপদ যানবাহন ভাবা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেই ট্রেনই হয়ে পড়েছে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাহন। রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরে সাড়ে চার হাজার মানুষ মারা গেছে ট্রেন দুর্ঘটনায়। এর মধ্যে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে ক্রসিংয়ে। দেশে হাজার হাজার রেলক্রসিং আছে, তার বেশির ভাগই অননুমোদিত। যেখানে অনুমোদিত ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঠেকানো যায় না, সেখানে অননুমোদিত ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটবেই।

গত শনিবার দুটি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে, যার একটি প্রাণঘাতী। ঢাকাগামী নীলসাগর ট্রেনটি গাজীপুরের সোনাখালী রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেললাইনে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং দুজন মারা যান। অন্যদিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও রেলস্টেশন এলাকায় লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের সাতটি ওয়াগন রেললাইনের পাশে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত ওয়াগনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ১ লাখ ৩০ হাজার লিটার তেল ছিল। রেলওয়ের ১৫০ জন কর্মী ২৩ ঘণ্টা পরিশ্রম করে লাইন ঠিক করেছেন এবং সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার ট্রেন যোগাযোগও স্বাভাবিক হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যে রেললাইনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে, সেই রেললাইনকে এভাবে অনিরাপদ রাখা কেবল দায়িত্বহীনতা নয়, অমার্জনীয় অপরাধ। গাজীপুরের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এবং মৌলভীবাজারে লাইনচ্যুত হয়ে তেলবাহী ওয়াগন পড়ে যাওয়ার দায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিতেই হবে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ বলেছে, তেল পরিবহনের দায়িত্ব ছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের; তেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই দায়ও রেল তাদের নিতে হবে। লাইনচ্যুত ওয়াগন থেকে হাজার হাজার লিটার তেল মাটিতে পড়ায় সেখানকার মাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ যেভাবে পড়ে যাওয়া ওয়াগনের তেল সংগ্রহ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, তা অনৈতিক বলে মনে করি। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তেল জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বহনকারী কর্তৃপক্ষের। এমন প্রযুক্তি থাকা দরকার, যাতে দুর্ঘটনায় পড়লেও ওয়াগন থেকে তেল পড়বে না। আর ওয়াগন তোলার চেষ্টা না করে স্থানীয় বাসিন্দাদের তেল সংগ্রহের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামাও সমর্থনযোগ্য নয়। কেবল শ্রীমঙ্গলের ট্রেন দুর্ঘটনা নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে কারও ঘরে আগুন লাগলে প্রতিবেশীরা আলু সেদ্ধ করতে উদ্গ্রীব হয়ে পড়েন। এই মানসিকতা অবশ্যই পরিহার করা উচিত।

দুটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্য পড়ুন 0