বরেন্দ্র এলাকায় সেচের পানি সরবরাহে অনিয়ম নিয়ে বছরের পর বছর ধরে মুখ বুজে ছিলেন কৃষকেরা। সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুই কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে বিষয়টি আলোচনা তৈরি করে। এবার ঠাকুরগাঁওয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপের সেচের পানি সরবরাহ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। সেখানে একটি নলকূপকে ঘিরে ১০ বছর ধরে হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন কৃষকেরা। সেচের জন্য প্রতি মৌসুমে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে তাঁদের। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড় বালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। প্রিপেইড সিস্টেমে একজন কৃষক থেকে প্রতি ঘণ্টায় সেচের পানির জন্য ন্যূনতম ১১০ টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই।
কিন্তু সেখানে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি বিঘায় ১ হাজার ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন অপারেটর নামধারী আকতারুজ্জামান। তাঁর স্ত্রীর নামে নলকূপটি স্থাপিত হলেও বিষয়টি গোপন করে তিনি নিজেই অপারেটর সেজে এ কাজ করছেন। বিএমডিএ গত বছর বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হলেও এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
গত মাসে (এপ্রিলে) ৫০ জন কৃষক বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলছেন, কার্ডের বাইরে টাকা দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও আকতারুজ্জামানকে প্রতি বিঘায় সেচের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। এই টাকা না দিলে তিনি পানি দেন না। ১০ বছর ধরে এমন অনিয়মে বিরক্ত হয়ে শেষমেশ বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এখনো এর বিচার পাননি। আকতারুজ্জামানের বক্তব্য, নিয়মানুযায়ী সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষকেরা অংশীদারত্বের টাকা দিতে রাজি না হলে কয়েকজনকে নিয়ে তিনি গভীর নলকূপটি বসান। এর খরচ বাবদ এক লাখ টাকা এভাবে তুলে নিতে বিএমডিএ থেকেই তাঁকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে তিনি সেখানে বাণিজ্যই শুরু করে দিয়েছেন। নলকূপ বসানোর খরচ এক লাখ টাকা তুলতে ১০ বছর ধরে প্রতি মৌসুমে প্রতিজন কৃষক থেকে বিঘা প্রতি টাকা তুলছেন তিনি।
বিএমডিএ ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ও অভিযোগটি যাচাই করে সত্যতা পেয়েছে। অপারেটরের বিরুদ্ধেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। আমরা দেখতে চাই তারা কী ব্যবস্থা নেয়। বিষয়টি আগে থেকে জানা সত্ত্বেও কেন তারা এত দিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, সেই জবাবদিহি তাদের করতে হবে। বরেন্দ্র এলাকায় সেচ নিয়ে অনিয়মের অবসান হোক।