বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনাকালে যখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে চাপ বাড়াবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। বর্তমান দর থেকে সরকার ডিজেল লিটারে ১৩ টাকা ১ পয়সা ও ফার্নেস তেল ৬ টাকা ২১ পয়সা করে কমে বিক্রি করছে। এতে দৈনিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। গত অক্টোবরে বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ৭২৭ কোটি টাকা।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অনেক কম ছিল, তখন সরকার বাংলাদেশে দাম কমায়নি। ২০১৬ সালে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের সময়ও দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম বেশি ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায়। দ্বিতীয়ত বিদেশ থেকে আমদানি করা জ্বালানির বেশির ভাগই পরিশোধিত। অপরিশোধিত জ্বালানি আনলে দাম অনেক কম হতো। পরিকল্পনা অনুযায়ী অধিক রিফাইনারি কারখানা স্থাপন করলে আমদানি খরচ অনেক কম পড়ত।

বাংলাদেশ সরকার যখন আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, তখন ভারত পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারে যথাক্রমে ৫ ও ১০ রুপি কমিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণায় বলা হয়, আসন্ন রবি শস্যের মৌসুমে কৃষকেরা যাতে উপকৃত হন, সে জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমানো হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ভোক্তাদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকারগুলোকে জ্বালানি তেলের ওপর ভ্যাট কমানোর অনুরোধও করেছে।

সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ২৫ শতাংশ বাড়ানো কতটা যৌক্তিক হয়েছে, তা–ও ভেবে দেখার বিষয়। দেশে পরিবহন ছাড়া কৃষিকাজেও বিপুল পরিমাণ ডিজেল ব্যবহৃত হয়। সে ক্ষেত্রে ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে যাবে। বর্তমানে চালসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর ওপর পরিবহন ভাড়া বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষ বিপদে পড়বেন। আশা করি, সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেবে না, যা জনজীবন আরও বিপন্ন করে তুলবে। সরকার আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়েও জ্বালানির দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন