প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে নগর-মহানগর উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) পাশ কাটিয়ে উন্নয়ন নয় বলে যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যেকোনো উন্নয়নকাজের জন্য সমন্বিত ও সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের
ঘাটতি বা গাফিলতি থাকলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বাধ্য। ড্যাপ প্রণয়নের পরপরই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রধানমন্ত্রী কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে খাল খননের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। খাল ছাড়া এই বিশাল এলাকার পানিনিষ্কাশন অসম্ভব বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। যদিও কোনো কোনো মহল থেকে এর বিকল্প হিসেবে বক্স–কালভার্ট নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঢাকা শহরের বক্স-কালভার্ট কাজে আসেনি, জলাবদ্ধতা বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রেও মহলবিশেষের সাময়িক সুবিধার কথা না ভেবে বৃহত্তর জনগণের দীর্ঘস্থায়ী স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। রাস্তার পাশে যাদেরই আবাসিক প্রকল্প থাকুক না কেন, খালের জায়গা বাদ দিয়েই সেটি করতে হবে।
পরিকল্পনা পাশ কাটিয়ে নগর উন্নয়ন নয়প্রতিটি আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা থাকতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গেও দ্বিমত করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজও বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কাজটি করবে কে? যে কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দেখার কথা, তারা যদি সেটি না দেখে তাহলে কখনোই পরিকল্পিত নগর হবে না। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় যে অপরিকল্পিত আবাসিক ও অনাবাসিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে, তার দায় রাজউক এড়াবে কীভাবে?
নগরের সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণ। পরিকল্পনা ছাড়া আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, সেটি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার ওপর। তারা আইন প্রতিপালনে কঠোর থাকবে এবং অনিয়মকে প্রশ্রয় দেবে না, এটাই প্রত্যাশিত।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন