বিজ্ঞাপন

১৯১৭ সালে স্যার প্যাট্রিক গেডিস ঢাকা শহরের জন্য একটি প্ল্যান করেছিলেন। এরপর ১৯৫৯ সালে ঢাকার জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়। এই মাস্টারপ্ল্যান ছিল ২০ বছর মেয়াদি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, সড়ক জলাশয় ইত্যাদি আছে কি না, সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে যে ঢাকা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ তৈরি করেছিল, এক দশক পরও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছে সরকার নতিস্বীকার করেছে।

একটি আদর্শ শহর গড়ে তুলতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, তার অনেক কিছুই ঢাকায় নেই। ঢাকা শহরকে গড়ে তুলতে যেসব মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়ন হয়নি। সবকিছু করা হয়েছে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে। ফলে এক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অন্য সমস্যা আরও প্রকট রূপ নিয়েছে। রয়েছে সমন্বয়ের অভাব। বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের মতো করে প্রকল্প নেয়, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে। সমন্বয় না থাকায় এক প্রকল্পের সঙ্গে অন্যটি সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। শহরের যানজট কমাতে উড়ালসড়ক তৈরি হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে এগুলো অন্য প্রকল্প ও পরিকল্পনার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে ঢাকার চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সেই আশায় নগরবাসী অপেক্ষা করছেন।

এ ছাড়া মশার উপদ্রব, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা নগরবাসীর নিত্যযন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ালেও কর্তাব্যক্তিদের খুব একটা মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। অতিরিক্ত জনসংখ্যা ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে প্রতিদিন নতুন মানুষ যোগ হচ্ছে ১ হাজার ৪১৮ জন। আমাদের উন্নয়নকাজেরও সিংহভাগ ঢাকামুখী। সরকার মুখে বিকেন্দ্রীকরণের কথা বললেও সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হচ্ছে। ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে ক্রমবর্ধমান জনস্রোত ঠেকাতেই হবে।

ঢাকার আশপাশ এলাকায় স্যাটেলাইট শহর গড়ার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা-ও বাস্তবায়ন করা যায়নি। পূর্বাচল উপশহরে উদ্যোগ নেওয়া হয় তিন দশক আগে। সেখানে এখনো পরিষেবা ও অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়নি।

সরকার উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সেই উন্নত দেশের রাজধানী শহরের এই বিবর্ণ চিত্র কেবল হতাশাজনক নয়, বাসিন্দাদের নিত্যযন্ত্রণারও কারণ। আশা করি, বিলম্বে হলেও নীতিনির্ধারকদের ঘুম ভাঙবে। হঠাৎ খেয়ালের বশে নয়, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন