বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও সচিব পদ দুটি উপসচিব পদমর্যাদার এবং সাধারণত বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তারা এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু এমডি তাকসিম এ খান চান না ঢাকা ওয়াসায় প্রশাসন ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তা আসুক। তাঁরা এমডির খেয়ালখুশিমতো প্রতিষ্ঠান চালাতে চাইবেন না। বিধিবিধান অনুসরণ করার চেষ্টা করবেন। এ কারণে ঢাকা ওয়াসায় ‘চলতি দায়িত্ব’ ও ‘অতিরিক্ত দায়িত্বের’ প্রাদুর্ভাব ঘটানো হয়েছে। সরকারি চাকরি আদেশ অনুযায়ী, চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দুই মাসের বেশি হলে ওয়াসা বোর্ড বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে ওয়াসার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এমডি তাকসিম এ খান আইন বা বিধিবিধানের তোয়াক্কা খুব কমই করেছেন।

ঢাকা ওয়াসার তিনটি প্রধান কাজ যথাক্রমে ছিল জনগণকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও খাল উদ্ধার। প্রতিষ্ঠানটির অদক্ষতার কারণে গত বছর খাল উদ্ধারের দায়িত্ব ওয়াসার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটি কতটা পালন করছে, তা নগরবাসী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

এরপরও তাকসিম এ খানকে ষষ্ঠবারের মতো এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি লম্বা ছুটিতে চলে গেছেন এবং বিদেশে অবস্থান করছেন। প্রথমে তিন মাসের ছুটি নিয়েছিলেন। পরে আরও এক মাসের ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। আবার ছুটির সময় তিনি বিদেশে বসে এমডির ‘দায়িত্বও’ পালন করেছেন। এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাঁর ছুটি মঞ্জুর করে পরিচালককে (উন্নয়ন) ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দিয়েছে। এক প্রতিষ্ঠানে দুজন এমডি!

বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বলেছেন, এ বিষয়ে গত বৈঠকে প্রশ্ন তোলা হলে ওয়াসার পক্ষ থেকে কেউ সদুত্তর দিতে পারেননি। কীভাবে পারবেন, ঢাকা ওয়াসা তো দেশের মাটিতে পরিচালিত হয় না। বিদেশে ছুটিতে থাকা এমডি যেভাবে চান, সেভাবেই চলে।

কিন্তু জনগণের করের অর্থে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। চলতে দেওয়া উচিত নয়। অবিলম্বে ঢাকা ওয়াসার চলতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রথা রহিত করে দায়িত্বশীল পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন