চেয়ারম্যানের অভিযোগ, চাল জব্দের ঘটনাটি মো. হাতেম আলীর সাজানো। অন্যদিকে হাতেম আলীর অভিযোগ, গত শনিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম থেকে চালের বস্তা ইজিবাইকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন গাড়িটি জব্দ করে তাঁকে খবর দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ও হাতেম আলী দুজনই আওয়ামী লীগ নেতা। গত নির্বাচনে হাতেম আলীকে হারিয়ে মোশাররফ হোসেন নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে বিরোধ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই বিরোধের খেসারত কেন গরিব মানুষ দেবেন? জরুরি প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের যতগুলো কার্ডের বিপরীতে চাল এসেছে, ঈদের আগে কেন তা বিতরণ করা হলো না। কার্ডধারীরা চাল নিতে আসেননি বলে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য দায় এড়াতে পারেন না। ইউপি চেয়ারম্যান কেন সব চাল বিতরণ না করেই নান্দাইল সদরে চলে গেলেন।

বিষয়টি হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এখানে সরকারের নীতিতেও ভুল আছে। তারা স্থানীয় সরকার সংস্থা তথা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করছে। আবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নামেও কার্ড বরাদ্দ করছে।

এ ধরনের দ্বৈত শাসন চলতে পারে না। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এর আগেও ভিজিএফের চাল বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাপে কম দেওয়া কিংবা নিম্নমানের চাল দেওয়ার ঘটনাও কম নয়। বিশেষজ্ঞরা ভিজিএফ কর্মসূচিতে চাল না দিয়ে নগদ টাকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা গরিব মানুষকে সহায়তার সদ্ব্যবহার কীভাবে করা যায়, সেটা তাঁরা ভালো জানেন। করোনাকালে ৫০ লাখ মানুষকে যদি নগদ সহায়তা দেওয়া যায়, ঈদে–পার্বণে কেন যাবে না?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন