বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ অবস্থা তৈরি করেছে রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ২৬ এপ্রিল তারা লাংকমপাড়া, রেংয়েনপাড়া ও জয় চন্দ্রপাড়ার ৪০০ একর জুমচাষের নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে ৩৫০ একর কেটে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিন্তু পাহাড়িদের ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।

প্রতিবছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে এলাকায় দিনমজুরির কাজ না থাকলে এমনিতেই অভাব দেখা দেয়। তখন তাঁরা বনাঞ্চলের মুলিবাঁশ ও গাছ সংগ্রহ করে বিক্রি করে বেচে থাকেন। এবার বনাঞ্চল পুড়ে যাওয়ায় একদিকে দিনমজুরির কাজ নেই, অন্যদিকে গাছ-বাঁশও তাঁরা সংগ্রহ করতে পারছেন না। ঈদের আগে কয়েকটি পরিবারকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কয়েক কেজি চাল দেওয়া হলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

পাড়াবাসীর বনাঞ্চল, বাগান, ধানের জমি পুড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা এখনো সরকারি-বেসরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ বা ত্রাণ পাননি।

প্রথম আলোয় ছাপা প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, পাড়াবাসীর অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়নি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা ‘অভিযোগ পাওয়া যায়নি’ বললে সেটিকে তথ্যের অভাবকে বোঝায় না; বোঝায় দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যবোধের অভাবকে। এলাকায় কী হচ্ছে, তা জানাই তাঁদের কাজ।

এত বড় এলাকার বনস্থালী পুড়িয়ে দেওয়ার পরও যদি কর্তারা ‘বিষয়টি জানানো হয়নি’—বাঁধা গৎটি বাজিয়ে দেন, তাহলে সরকারকে একটি পরামর্শই দেওয়া যেতে পারে। তা হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ত্রাণ দেওয়া হোক এবং নিজেদের কাজের নিয়মিত মূল্যায়ন এবং তৎসম্পর্কিত অভাব-অভিযোগ বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকা যে সরকারি কাজেরই অঙ্গ, সে কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরেকবার জানিয়ে দেওয়া হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন