default-image

অতিমারির বদৌলতে ইংরেজি ‘লকডাউন’ শব্দটি এখন ক অক্ষর গোমাংসের কাছেও আর দুর্বোধ্য কোনো শব্দ নয়। ‘কোলকেতার তলায়’ থাকা প্রান্তিক মানুষটিও এখন জানে করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষায় ও মঙ্গলার্থে অনিবার্যভাবে আরোপিত অবরোধ বোঝাতেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু নিতান্ত সংকীর্ণ স্বার্থ ও হিংসা চরিতার্থ করতে আস্ত একটি গ্রামকে ‘একঘরে’ করে ফেলা এবং সেই নিষ্ঠুর অবরোধকে ‘লকডাউন’ হিসেবে মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পৈশাচিক উদ্‌যাপনের নজির মিলেছে নাটোরের বড়াইগ্রামে। সেখানে নগর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রি আটাই নামের একটি গ্রামকে তিন মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন পাশের আটাই নামের একটি গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

তিন মাস আগে মসজিদের মাইকে আটাই গ্রামের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘ক্ষিদ্রি আটাই গ্রাম আজ থেকে লকডাউনে’। এরপর থেকে করোনাকবলিত জনগোষ্ঠীর মতোই ক্ষিদ্রি আটাই গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে। সেই থেকে এই গ্রামের ৮০টি পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। নিজেদের চাষের জমিতে কিংবা বাজারঘাটে যাওয়ার চেষ্টা করলেই তাঁদের ওপর নজরদারিরত আটাই গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করছেন। প্রশাসনের কাছে খবরটি গেলেও ক্ষিদ্রি আটাই গ্রামের মানুষের নিষ্কৃতি মিলছে না।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আটাই ও ক্ষিদ্রি আটাই গ্রামের এক কোণে পাঙ্গিয়ার দিঘি নামে প্রায় ৫২ একরের একটি সরকারি জলমহাল রয়েছে। একসময় ইজারা ছাড়াই এই জলমহাল আটাই গ্রামের বাসিন্দারা ভোগ করতেন। এক বছর আগে ক্ষিদ্রি আটাই গ্রামের মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি জলমহালটি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয় এবং সেখানে মাছ চাষ শুরু করে। এরপর আটাই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে জোর করে জলমহালটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ বাধে। সংঘর্ষও হয়। পাঙ্গিয়ার দিঘির নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করতে আটাই গ্রামের প্রভাবশালীরা গত ২৫ ডিসেম্বর মসজিদের মাইকে ও হ্যান্ডমাইকে ক্ষিদ্রি আটাই গ্রামকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে। পাশাপাশি বিলে গ্রামবাসীর যেসব জমি আছে, সেখানেও তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। বিলে নামলেই তাড়া করা হয়।

এই লকডাউনে সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলেও আসে নানা ধরনের বাধা। এসব বাধার মধ্যে ভীষণ কষ্টে দিন কাটছে তাঁদের। অবরুদ্ধ গ্রামবাসী জমিতে সেচ দিতে পারছেন না বলে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসনের দায় আছে। দায় আছে স্থানীয় সাংসদসহ অন্য জনপ্রতিনিধিদেরও।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন