সরকারি তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ৪৫ লাখ মানুষ বন্যাপীড়িত। ১ হাজার ৪৭৪টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। গত মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সরকারের তরফে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সিলেট জেলায় ৮১২ টন চাল, শুকনা খাবার ১৩ হাজার ১১৮ প্যাকেট ও ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। সুনামগঞ্জে বরাদ্দ হয়েছে ৭৭০ টন চাল, ১৩ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলায় ২১০ টন চাল, ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং হবিগঞ্জে ৪০ টন চাল, ৫ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পেয়েছেন শূন্য দশমিক ৪৪ কেজি চাল ও ৬ দশমিক ৫৫ টাকা। যদি ত্রাণসামগ্রীর পুরোটা ত্রাণশিবিরের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়, জনপ্রতি পাবেন যথাক্রমে ৪ দশমিক ৮৮ কেজি চাল ও ৭৩ দশমিক ৭৫ টাকা।

এই বরাদ্দ সমুদ্রে গোষ্পদতুল্য। বন্যা মোকাবিলা ও বিপন্ন মানুষকে বাঁচাতে সরকার জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকেও নিয়োজিত করেছে। এর মাধ্যমে পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করা যায়। কিন্তু আমরা শুরু থেকে লক্ষ করেছি যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে কোনো শৃঙ্খলা না থাকায় অনেক দুর্গত মানুষ ত্রাণসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

আবার হেলিকপ্টার থেকে ফেলা ত্রাণসামগ্রী নিতে গিয়ে ১০ জন আহত হয়েছেন; যাঁদের একজন পরে হাসপাতালে মারা যান। অনেক বেসরকারি সংস্থা অভিযোগ করেছে, তারা বন্যাদুর্গত মানুষকে সহায়তা করতে চায়। কিন্তু দুর্গম অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার মতো পরিবহন তাদের নেই। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের যে দায়িত্ব ছিল, তারা তা পালন করেনি। এই ব্যর্থতা কীভাবে এড়াবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা?

এবার সিলেট অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ শুধু পানিবন্দী হয়েই পড়েনি, বিমান, ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু লাখ লাখ বন্যাদুর্গত মানুষকে রক্ষা করতে যে ধরনের উদ্যোগ-আয়োজন দরকার ছিল, তা দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গত অঞ্চল ঘুরে আসার পর প্রশাসন কিছুটা তৎপরতা দেখালেও জনপ্রতিনিধিদের বেশির ভাগের কোনো তৎপরতা নেই।

সরকারি ত্রাণসামগ্রী যত অপ্রতুলই হোক না কেন, জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় যান বা না-ই যান, আশার কথা, সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্গত মানুষকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। তারা সাধ্যমতো সহায়তাও করছে।

আমরা তাদের অভিনন্দিত করতে চাই। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশের মানুষ যে একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ায়, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, সেই গৌরবময় ঐতিহ্য থেকে আমরা যেন সরে না যাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন