প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একটি সাত সদস্যের প্রান্তিক পরিবারের পানি সংরক্ষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাঠের টুকরা, বাঁশের চট, জিও বস্তার কাপড় ও পলিথিন দিয়ে তৈরি করা ‘বস্তার কুয়া’য় কয়েক মাসের খাওয়ার পানি সংগ্রহ করে রাখে পরিবারটি। দীর্ঘদিন এভাবে পানি সংরক্ষণ করে রাখা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। চৈত্র মাসের শেষে সেই পানি ফুরিয়ে এসেছে। ফলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হবে পরিবারটিকে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রায় দুই লাখ মানুষের এ উপজেলায় সব মিলিয়ে ৫০টির মতো সরকারি পুকুর আছে। এর অনেকগুলো কাজে আসে না। তিন বছরে সরকারিভাবে তিন হাজার ট্যাংক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও আরও চার-পাঁচ হাজার ট্যাংক দিয়েছে। বৃষ্টির পানির সংরক্ষণের জন্য নতুন করে কয়েকটি প্রকল্প পাস হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার শিকার দাকোপের মানুষের সুপেয় পানির জন্য যে সংগ্রাম, তা এককথায় দুর্বিষহ। বাংলাদেশ বিশ্বের ভাগ্যবান দেশগুলোর একটি, যেখানে সুপেয় পানির নানামুখী উৎস রয়েছে। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বিশ্বের অনেক দেশেই লবণাক্ত পানি পরিশোধনের মাধ্যমে সুপেয় পানিতে পরিণত করা হচ্ছে। তা ছাড়া বর্ষা মৌসুমে বড় পরিসরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমেও সুপেয় পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। এ জন্য সরকারকে বিজ্ঞানসম্মত প্রকল্প হাতে নিতে হবে, যাতে দাকোপের সব মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা মেটানো যায়। দাকোপবাসীকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন