শাহজাহানপুরে রেলওয়ে কলোনি মাঠে ওয়াসার পাইপের ভেতরে পড়ে গিয়ে জিহাদ নামের চার বছরের শিশুটির মারা যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। কিন্তু বলার অপেক্ষা রাখে না যে সেই বেদনার খবরকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে তার উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংস্থার ব্যর্থতা, গাফিলতি এবং শিশুটির বাবার প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ঠুরতা। পুলিশের এই আচরণ কেবল অমানবিক নয়, অমার্জনীয়ও।
শিশুসন্তানকে হারিয়ে বাবা যখন পাগলপ্রায়, তখন পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে ১২ ঘণ্টা থানায় আটকে রেখেছে। তাঁর আটকাবস্থা তখনই শেষ হয়, যখন একদল স্বেচ্ছাসেবক পাইপ থেকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। স্বভাবতই আশঙ্কা হয়, স্বেচ্ছাসেবকেরা গত শুক্রবার এসে শিশুটিকে উদ্ধার না করলে তার বাবাকে হয়তো এখনো পুলিশের নির্যাতন সইতে হতো।
আগের দিন রাতে অবশ্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ দমকল বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাইপে শিশুর অস্তিত্ব থাকা সম্পর্কেই সন্দেহ পোষণ করেন। শিশুটির বাবার ওপর পুলিশের নির্দয় আচরণের শুরুও সেখান থেকে। জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা কতটা অদক্ষ, অকর্মণ্য, দায়িত্বহীন ও অমানবিক হলে একজন সন্তানহারা বাবার ওপর এ রকম নির্যাতন চালাতে পারেন!
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইজিপি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাও গ্রহণযোগ্য নয়। উদ্ভূত অবস্থায় শিশুটির বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাই তো একধরনের নিষ্ঠুরতা। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর উচিত ছিল এই দুঃসময়ে শিশুটির বাবার পাশে দাঁড়ানো। সেটি না করে যাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ১২ ঘণ্টা আটকে রেখেছেন, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এ ঘটনায় আমাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা, অব্যবস্থা, অদক্ষতার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এর আগে এতটা কঠোর না হলেও রানা প্লাজা ও সুন্দরবন বিপর্যয়েও কর্তৃপক্ষ বেশ দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
যদি স্বেচ্ছাসেবকেরাই এ ধরনের উদ্ধারকাজ করতে পারেন, তাহলে জনগণের করের পয়সায় কেন এসব বাহিনীর সদস্যদের পোষা হবে?

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন