default-image

ইরানের কবি শেখ সাদী লিখেছিলেন, ‘ঊষর মরুর ধূসর বুকে বিশাল যদি শহর গড়ো/ একটি জীবন সফল করা তাহার চাইতে অনেক বড়।’ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের অনেক শিক্ষার্থীর জীবন সফল করে দেশসেরা শিক্ষক হওয়ার খবরটি অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের।

প্রথম আলোর রাজবাড়ী প্রতিনিধির পাঠানো খবরে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া শহিদুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে উল্লিখিত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি একে একটি আদর্শ শিক্ষালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে উৎসাহিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, গ্রন্থাগার, শহীদ মিনার, শিক্ষা উপকরণ কর্নার, মিনা-রাজু পার্ক, পতাকামঞ্চ, ভূগোলক, রিডিং কর্নার, হাসান আলী স্কয়ার, পশুপাখির ম্যুরালসহ নানাবিধ স্থাপনা।

শহিদুল ইসলাম এই বিদ্যালয়ে সততা স্টোর চালু করেন, যেখানে কোনো বিক্রেতা নেই। দোকানে থাকা সব পণ্যের দাম গায়ে লেখা থাকে। শিক্ষার্থীরা দাম দিয়ে পছন্দসই পণ্যটি কিনে নেয়। পরবর্তী সময়ে সততা স্টোর চালু হলেও শহিদুল ইসলামই ছিলেন এর উদ্যোক্তা। ২০১৮ সালে স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জেলার সেরা বিদ্যালয় এবং শহিদুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা আর বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। কিন্তু যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল, তখনো দেখা যেত অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক গরহাজির থাকতেন নানা অজুহাতে। আর শহিদুল ইসলাম ২০১৪ সাল থেকে ছয় বছর কোনো নৈমিত্তিক ছুটি না নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করেছেন। তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের সমস্যা জানেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। প্রাথমিক সমাপনীতে ভালো ফল লাভের জন্য তিনি বিদ্যালয়ের সময়সূচির বাইরে বৈকালিক বা নৈশকালীন বিদ্যালয় চালু করেছেন। তাঁর এই বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় কেউ ফেল করে না; শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তিও পায়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে দেশসেরা শিক্ষক হওয়ায় শহিদুল ইসলামকে আমরা অভিবাদন জানাই। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর এই প্রশংসনীয় কার্যক্রম অন্য শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে, আশা করি। শিক্ষার আলোয় দেশকে আলোকিত করতে হলে এর প্রাথমিক ভিতটি অবশ্যই মজবুত করতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0