প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, প্রায় দেড় মাস আগে দ্বীপে পর্যটক আগমনের মূল মৌসুম শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো দ্বীপজুড়ে পড়ে আছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। পরিবেশের ক্ষতি ও সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি এসব বর্জ্যের দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। সৈকতের প্রায় দেড়-দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাচের বা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট, ওয়ান টাইম পণ্য, পলিথিন, ক্যান, নাইলনের দড়িসহ বিভিন্ন অপচনশীল বর্জ্য। এ ছাড়া যোগ হয়েছে শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ ও গৃহস্থালির বর্জ্যও। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর বর্জ্য যাচ্ছে সরাসরি সাগরে। বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার টেকসই কোনো উদ্যোগ না থাকায় বছরের পর বছর এমনটি ঘটছে। এতে দ্বীপটি প্রবালশূন্য হয়ে পড়ছে, হারাচ্ছে জীববৈচিত্র্যও।

দুই যুগে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের আগমনসংখ্যা বছরে ২০০ থেকে কয়েক লাখে গিয়ে ঠেকেছে। একই সময়ে জনসংখ্যা ৩ হাজার থেকে হয়েছে প্রায় ১০ হাজার। এক দশক আগে ১৭টি হোটেল থাকলেও সে সংখ্যা এখন দেড় শতাধিক। সেন্ট মার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দ্বীপে কিছু সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। তাঁরা পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থে কিছুই করেন না। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলতে অধিদপ্তর থেকে প্রচারণা চালানো হলেও পর্যটকেরা পাত্তাই দেন না। বলতেই হবে যে আমাদের পর্যটক ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা এখনো পর্যটনবান্ধব হতে পারেনি।

আমরা মনে করি, শুধু প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত নজরদারি চালানোসহ প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য গিয়ে সাগরে পড়া ঠেকাতে একটি ব্যবস্থাপনাও গড়ে তুলতে হবে। তবে সেন্ট মার্টিনকে বাঁচাতে সেখানে পর্যটক আগমনের নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি কার্যকর হয়নি। সেখানকার নৌযান সমিতি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্য ঠেকানো না গেলে তা কখনো সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, এ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন