বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূত্রমতে, মাধ্যমিক স্তরের মোট ২৪ কোটি ৭১ লাখ ৫৫ হাজার বইয়ের মধ্যে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ২৩ কোটি ১১ লাখ ৫৬ হাজার বই ছাপা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বই পাঠানোর ছাড়পত্র পেয়েছে ২২ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার; প্রায় ২ কোটি বই ছাড়পত্রই পায়নি। আর ছাপা না হওয়া বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ। মাধ্যমিক স্তরের সপ্তম শ্রেণির পাঁচটি বই এখনো পায়নি। আর অষ্টম শ্রেণিতে কেবল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের বই পেয়েছে।

সে ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর নতুন বই পাওয়া নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা আছে। পাঠ্যবই বিতরণে বিলম্বের খবরটি তখনই এল, যখন করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। সরকার ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, টিকা ছাড়া ১২ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারবে না। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাকি বই কবে পাবে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

তবে পাঠ্যবই বিতরণে বিলম্বই একমাত্র সমস্যা নয়। যেসব বই বিতরণ করা হয়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছুতে গুরুতর ভুল আছে। প্রতিবছরই পাঠ্যবইয়ে ভুল ও অসংগতি থাকছে। এ নিয়ে আলোচনা–সমালোচনাও কম হচ্ছে না। কিন্তু পরিস্থিতির ইতরবিশেষ ঘটছে, এ রকম প্রমাণ নেই। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের খবর অনুযায়ী, মাধ্যমিকের সাতটি পাঠ্যবইয়ে মিলেছে প্রায় অর্ধশত ভুল। ২০২২ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ২৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, জেনারেল এরশাদের ত্রয়োদশ সংশোধনী সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন। অথচ ত্রয়োদশ সংশোধনী হয় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে। একই বইয়ে বলা হয়েছে, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয় ২০০৮ সালে। অথচ তা বাতিল হয় ২০০৯ সালে।

পাঠ্যবইয়ে ভুল তথ্য থাকলে শিক্ষার্থীরা ভুল শিখবে। অতএব, অবিলম্বে ভুলগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন। শিক্ষাবিদদের মতে, বই লেখা ও সম্পাদনায় পেশাদারির ঘাটতির কারণেই এসব হয়েছে। অনেক সময় পুরোনো বইয়ের প্রিন্টার্স লাইন বদলে নতুন বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে যেসব শিক্ষার্থী পাঠ্যবই পায়নি, তাদের কাছে সেগুলো পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে যেসব ভুল তথ্য আছে, তা–ও জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন