বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর খবর থেকে আরও জানা যায়, প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের গাড়ি ব্যবহার নিয়ে যাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কোনো প্রশ্ন না করে, সে জন্য সেখানকার কর্মকর্তাদের চারটি গাড়ি ঘুষ বা উপঢৌকন হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। একটি অন্যায়কে ধামাচাপা দিতে তাঁরা আরেকটি অন্যায় কাজ করছেন। নগরবাসীর সেবার জন্য অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার প্রয়োজন বলে সিটি করপোরেশন যেসব যুক্তি দেখিয়েছে, তা-ও ধোপে টেকে না। সিটি করপোরেশনে কোন কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা গাড়ি সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের একটি প্রাধিকার তালিকা ছিল। এর আনুষ্ঠানিক নাম টেবিল অব অর্গানোগ্রাম অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট (টিওঅ্যান্ডই)।

২০১১ সালে দুই সিটি ভাগ হওয়ার পর আলাদাভাবে কোনো টিওঅ্যান্ডই হয়নি। এ ধরনের প্রাধিকার তালিকা করলে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই টিওঅ্যান্ডই অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য একটি, স্বাস্থ্য ও মশক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের জন্য একটি, জরুরি কাজে পরিবহন পুলে একটি করে এসইউভি (স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল) এবং সড়কবাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্পত্তি বিভাগে তিনটি পিকআপ ভ্যান থাকবে। যেখানে জনগণের সেবা বেশি প্রয়োজন, সেখানেই গাড়ি বরাদ্দ সবচেয়ে কম।

সিটি করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই জনপ্রশাসন থেকে প্রেষণে আসেন, যাঁদের একাংশ ২০১৭ সালের সরকারি আদেশ অনুযায়ী বিনা সুদে গাড়ি কেনার ঋণ পেয়েছেন। কিন্তু প্রেষণে এসে এসব কর্মকর্তাও সিটি করপোরেশনের গাড়িই ব্যবহার করছেন, যদিও তাঁরা গাড়ির প্রাধিকারভুক্ত নন। বিষয়টি অনেকটা ‘সরকার কা মাল দরিয়া মে ঢাল’–এর মতো। কেবল সিটি করপোরেশন নয়, সরকারি অনেক সংস্থায়ই গাড়িবিলাস চলছে। যেখানে তদারককারী সংস্থার কর্মকর্তারাই গাড়ি ঘুষ নেন, সেখানে সিটি করপোরেশনের গাড়িবিলাস থামাবে কে? দুই সিটি মেয়র ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন