default-image

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী পায়রা। পায়রা সমুদ্রবন্দর ও সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ নদীর গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। ভবিষ্যতে পায়রা সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি চালু হলে নদীতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানের সংখ্যা আরও বাড়বে।

যেসব নদী সমুদ্র থেকে দূরে, সেসব নদীর নাব্যতা কমে যেতে পারে। কিন্তু সমুদ্রসংলগ্ন যে নদীতে নিয়মিত জোয়ার–ভাটা হয়, সেই নদীতে নাব্যতা কমে গেলে বুঝতে হবে পানির প্রবাহ কোথাও না কোথাও ব্যাহত হচ্ছে। পায়রার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু পায়রা নদীর নাব্যতা বাড়াতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নদীর বরগুনা-আমতলী অংশে যে খননকাজ শুরু করেছে, তার ফল নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। সংস্থাটি নদীর তলদেশ থেকে পলিমাটি কেটে নিয়ে তা জমা করছে নদীর ভেতরে জেগে ওঠা ডুবোচরে। এর অর্থ তারা নদীর পলি আবার নদীতেই ফেলছে। ডুবোচরে ফেলা মাটি যাতে নদীতে না যায়, সে জন্য চারপাশে বাঁশ পুঁতে চাটাইয়ের বেড়াও দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

প্রথম আলোর বরিশাল ও বরগুনা প্রতিনিধির খবরে জানা যায়, পায়রা নদীর আমতলী নৌবন্দরসংলগ্ন এলাকায় খনন কার্যক্রম চলছে। খননের এ পলি ওই স্থান থেকে পাইপে করে এনে ফেলা হচ্ছে দক্ষিণ দিকের আমতলী ফেরিঘাট থেকে পশ্চিমে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের নদীর মধ্যে একটি বিশাল ডুবোচরে।

পরিবেশবাদীদের মতে, বিআইডব্লিউটিএর এ ‘অভিনব’ পদ্ধতির খননকাজ কোনো সুফল দেবে না। বরং ডুবোচরে মাটি ফেলায় তা সমতল ভূমিতে পরিণত হবে। আর চর চলে যাবে দখলদারদের কবলে। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা যুক্তি দেখাচ্ছেন, পলি ডাঙায় ফেলার মতো জমি পাওয়া যায়নি বলে ডুবোচরে ফেলা হচ্ছে। ভাসমান পাইপ দিয়ে ডুবোচরে পলি নেওয়া গেলে পাড়ে ফেলা যাবে না কেন? ডুবোচরের বালু অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা থাকলে কেন খননস্থল থেকে সরাসরি সেখানে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে না?

বাংলাদেশে নদী খননে প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়। কিন্তু নদীগুলোতে নাব্যতা রক্ষা হয় না। কর্তৃপক্ষ এর কারণও অনুসন্ধান করে দেখে না। নদী রক্ষায় প্রথমত নদীর দূষণ ও দখল বন্ধ করতে হবে। তাহলে আপনাতেই নদী সচল থাকবে। আশা করি, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ডুবোচরে পলি ফেলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন