বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে ইছামতী উচ্ছেদ ও খনন প্রকল্প শুরু হয়। মেয়াদ ছিল দুই বছর, বরাদ্দ ছিল ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। দীর্ঘ সময়ে উচ্ছেদে অগ্রগতি ৫ শতাংশ, খননে ১৮ শতাংশ। বরাদ্দের ব্যয় হয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ টাকা। এর মধ্যে উচ্ছেদে ব্যয় ৩ শতাংশ ও খননে ৯ শতাংশ। এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে ফেরত যাচ্ছে প্রকল্প বরাদ্দের ৮৮ শতাংশ টাকা। এর মধ্যে উচ্ছেদ বরাদ্দের ৯৭ শতাংশ এবং খনন বরাদ্দের ৯১ শতাংশ টাকা রয়েছে।

ইছামতী নদীকে কেন্দ্র করে পাবনা জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য বিকশিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে নদীর দুই পাড় ধীরে ধীরে দখল হতে থাকে। উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে নদীটি এখন মৃতপ্রায়। সিএস নকশায় নদীর প্রশস্ততা যেখানে ১০০ থেকে ১৮৫ ফুট, আরএস নকশায় সেটা ৫ থেকে ৪৫ ফুট পর্যন্ত কমে গেছে। নদীর জমি দখল করে কেনাবেচাও করা হয়েছে। ফলে নানা আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ইছামতী নদীর প্রাণ ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন পরিবেশবাদী ও পাবনা জেলার অধিবাসীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসন ইছামতীর উৎসমুখ সদর উপজেলার চর শিবরামপুর থেকে পৌর এলাকার শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় ২৮৪ জন দখলদার চিহ্নিত করে। ২০১১ সালে দখলদার উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু খননকাজ না হওয়ায় আবার দখল হতে থাকে নদীর দুই পাড়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে বর্তমান প্রকল্পটি নেওয়া হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পাবনা কার্যালয় জানিয়েছে, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে সাতটি ও নিম্ন আদালতে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আদালত উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ফলে উচ্ছেদ ও খনন—কোনোটাই সম্ভব হচ্ছে না। ২০১৯ সালের ১ জুলাই উচ্চ আদালত এক রায়ে নদী রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপরও দখলদারদের কারণে ইছামতীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীর প্রাণ ফেরানোর প্রকল্প বন্ধ থাকা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে যে আইনি জটিলতা আছে, তা–ও দ্রুত নিরসন করতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন