নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে এলাকাবাসী

নাগের ভারানী খালের সেতু

বিজ্ঞাপন

গ্রামীণ অবকাঠামোর পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনেক সময় সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে সড়ক নির্মাণ করেছেন, এ রকম খবর ও ছবি প্রায়ই পত্রিকায় ছাপা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কতটা টনক নড়ে, এমন কথা বলা কঠিন।

গত সোমবার প্রথম আলোতে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের নাগের ভারানী খালের ওপর নির্মিত সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার খবর ছাপা হয়েছে। এ খালের দুই পাশে ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, কলেজ, একাধিক প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও বাজার আছে। ফলে এ খালের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষকে চলাচল করতে হয় এবং তাদের সাঁকোই ভরসা। কিন্তু সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের চলাচল করা কঠিন। এ ছাড়া কৃষকের পক্ষে ধান, চাল ও অন্যান্য সামগ্রী বহন করাও অসম্ভব। বাধ্য হয়ে তাঁরা বাড়িতেই ধান, চাল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কম দামে বিক্রি করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, নাগের ভারানী খালের ওপর নির্মিত লোহার তৈরি সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নতুন সেতু তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাশেম কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স পল্লি স্টোরস। সেতুর নির্মাণব্যয় ৩ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর নির্মাণ শুরু হওয়া এ সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি এবং ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। গ্রামবাসীর আশঙ্কা, বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হবে না। সেতুর ৭০ শতাংশ কাজ বাকি। গত মে মাস থেকে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় লোহার রডগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির কলাপাড়া উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলীর দাবি, নকশা পরিবর্তন, ঠিকাদারের অসুস্থতা, প্রবল বর্ষণ ও করোনা মহামারির কারণে সেতুর নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি চিঠি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। আগামী মে মাসের মধ্যে যাতে কাজ শেষ হয়, সে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করতে হবে। প্রকৌশল বিভাগ বা ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে কেন?

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন