অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, কিন্তু পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁর আয় বাড়ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপে বরং উল্টো চিত্রই ফুটে উঠেছে। দুই বছরের ব্যবধানে নারী শ্রমিক ও নারী চাকরিজীবীদের গড় মাসিক মজুরি ৩১৯ টাকা কমেছে। অথচ একই সময়ে পুরুষের ১১২ টাকা বেড়েছে। ত্রৈমাসিক জরিপের ভিত্তিতে করা এই পরিসংখ্যানে সাময়িক কিছু কারণের প্রভাব থাকতে পারে, যা হয়তো সারা বছরের চিত্র তুলে ধরে না। নারীর গড় মজুরি কমার প্রকৃত কারণগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা দরকার।

সরকারি ও কিছু করপোরেট খাত বাদে নারী শ্রমিক ও নারী চাকরিজীবীদের মজুরি বা বেতন পুরুষের তুলনায় কম। নির্মাণশিল্প, কৃষিকাজ, গৃহস্থালি কর্মে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়। এমনকি যে পোশাকশিল্পের সিংহভাগ শ্রমিক নারী, সেখানেও পুরুষের তুলনায় নারী কর্মীদেরকম মজুরি দেওয়া হয়। বিষয়টি শুধুই আর্থিক নয়, মনস্তাত্ত্বিকও বটে। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে নারীদের এই বঞ্চনা-বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ অবশ্যই নিতে হবে। তবে সেটা যথেষ্ট নয়, শ্রমিক আন্দোলনে এজেন্ডায় নারী শ্রমিকদের বৈষম্য দূর করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, নানাভাবে সামাজিক চাপ বাড়াতে হবে।

নারীর সব বঞ্চনা ও পশ্চাৎপদতার পেছনে রয়েছে তাঁর ক্ষমতাহীনতা ও সমাজের প্রথাগত অন্যায্য মানসিকতা। নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয় বটে, কিন্তু সত্যিকার অর্থেই তার ক্ষমতায়ন ঘটানোর প্রয়াস খুব কম। শিক্ষাবিস্তার, দক্ষতা বৃদ্ধি, অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ইত্যাদির মধ্য দিয়ে নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ঘটানোর বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন