বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাঠপর্যায়ে নারী কর্মকর্তা নিয়োগের অন্যতম কারণ হচ্ছে তাঁরা স্থানীয়, বিশেষ করে নারীদের সমস্যাটি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। তাঁদের সঙ্গে অনায়াসে যোগাযোগ করতে পারবেন। কিন্তু নারী কর্মকর্তারা যদি পদে পদে হেনস্তা হন কিংবা প্রভাবশালীদের চাপে থাকেন, তাহলে কাজ করবেন কীভাবে? তাঁদের ওপর যেসব বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়, তার মধ্যে আছে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনিয়ম, যাচাই ছাড়া ব্যয় বরাদ্দ এবং ভুয়া ব্যয়ের বিল দিতে বাধ্য করা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনেক সময় অশুভ আঁতাত তৈরি হয় এবং তাঁরা নারী কর্মকর্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন তো বটেই, আইনের শাসন ও জনগণের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহল বড় বাধা। সব ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের পক্ষে অভিযোগ করাও সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে সরকারেরই উচিত হবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কথিত প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তিনি ঘোড়াঘাটে ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় অনেকের অন্যায় উপার্জন ও মাস্তানি বন্ধ হয়েছে। ফলে তাঁরাই তাঁর ওপর হামলা করেছেন, যঁারা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছেন।

আসলে কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় সংসদের সদস্যদের মধ্যেও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। কয়েক মাস আগে জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর যে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়, তাতে নারী ইউএনওদের বিকল্প কর্মকর্তা দেওয়ার সুপারিশ করে। যে দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের আসনে, সে দেশে এ ধরনের সুপারিশ কীভাবে আসতে পারে?

টিআইবি নারী ইউএনওদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দূর করার জন্য উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পরিষদের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে নারীর প্রতি সংবেদনশীল আচরণের ওপর প্রশিক্ষণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের এসিআরে জেন্ডার সংবেদনশীল–সহায়ক কর্মসূচিসহ আট দফা প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের কর্তব্য হবে এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে নারী কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের অনুকূল ও নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন