অবরোধের ৩৮ দিন পার হলো, কিন্তু পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণই নেই। যাত্রীবাহী বাসে, ট্রাকে ও যানবাহনে পেট্রলবোমা, আগুন দেওয়া—এসব চলছেই। এখন রাজধানীতে একটি স্কুলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। খুলনায় বইমেলায় হয়েছে ককটেল হামলা। সরকার এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে এসব ঘটনা থামানো যাচ্ছে না। আর নিরীহ সাধারণ নাগরিকেরাই এর শিকার হচ্ছে।
এটা পরিষ্কার যে নাশকতা ও বর্বরতা চালিয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং এভাবে দেশকে অচল করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট। তারা গণ-আন্দোলনের পথ না ধরে নাশকতার পথ ধরেছে এবং এর আওতা বাড়াতে চাইছে। স্কুলে আগুন দেওয়ার ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার কঠোর হতে গিয়ে ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নিয়েছে। আমরা বারবার বলছি, এভাবে কোনো পক্ষই ফায়দা লাভ করতে পারবে না দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের সর্বনাশ করা ছাড়া।
আমরা আবারও বলি, বিএনপি ও তাদের জোটকে এই ভয়ংকর পথ ছেড়ে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ ধরতে হবে। আন্দোলনের নামে নিরীহ জনগণকে এর শিকারে পরিণত করে আর যাই হোক ‘গণতন্ত্র উদ্ধার’ করা সম্ভব নয়। একইভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে এটা মানতে হবে যে দেশের বর্তমান অসহনীয় পরিস্থিতির একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি অবশ্যই জোরালোভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
মাস খানেকের বেশি সময় ধরে চলা এই নাশকতা ও সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৮৭ জনের প্রাণ গেছে। দেশ একটা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতির ক্ষতি, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা—সবই বিপর্যস্ত। এসব বিবেচনায় নিলে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও সরকার—দুই পক্ষকেই তাদের অবস্থান নমনীয় করতে হবে। আমরা এখনো দুই পক্ষের শুভ বোধের উদয় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন