অবরোধের সঙ্গে শুরু থেকেই মিলেমিশে আছে নাশকতা। এর অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দুর্বৃত্তরা শুরু থেকেই ট্রেন ও রেলপথকে তাদের টার্গেটে পরিণত করেছে। গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেনে যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত শুক্রবার রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে রাখলে রাজশাহী হয়ে ঈশ্বরদী যাওয়ার সময় একটি লোকাল ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের গতি কম থাকায় সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হয়নি। কিন্তু দীর্ঘ সময় এ পথে রেল চলাচল বন্ধ ছিল এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে। এ ধরনের নাশকতায় রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট ও জনগণের জীবনকে নিরাপত্তাহীন করা ছাড়া যে কোনো ফল পাওয়া যায় না, সে সত্যটি স্বীকার করবে অবরোধ পালনকারী ২০-দলীয় জোট?
নারায়ণগঞ্জে ট্রেনে আগুনগত ৪২ দিনের টানা অবরোধে ১৩ দফা নাশকতার শিকার হয়েছে রেল ও রেললাইন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনও ককটেল হামলার কবলে পড়েছে। সড়কপথে বোমা, পেট্রলবোমা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে এগারো শর বেশি যানবাহন। এসব করে অনেকগুলো প্রাণ নেওয়া সম্ভব হয়েছে, জনমনে হয়তো আতঙ্ক সৃষ্টি করা গেছে, কিন্তু বাস্তব কারণেই দীর্ঘদিনের এই অবরোধ মানুষ এখন আর মানছে না।
যে আন্দোলন জনগণকে মাঠে নামাতে পারে না এবং শুধু নাশকতার ওপর নির্ভরশীল, তার পরিণতি ভালো হতে পারে না। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের জীবন-জীবিকার কারণে বাধ্য হয়েই যানবাহনে বা ট্রেনে চলাচল করছে, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছে। এই সাধারণ মানুষকে শিকারে পরিণত করা দাবি আদায়ের কৌশল হতে পারে না।
আমরা আশা করব, বিএনপি ও তার সহযোগীরা দেরিতে হলেও শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে। অবরোধের মতো আন্দোলন কর্মসূচি ও তা মানতে জনগণকে বাধ্য করতে নাশকতার পথ ছেড়ে নিয়মতান্ত্রিক ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কৌশল নেবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন