default-image

সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায় ১১ মাস আগে একটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালকে ৮টি ভেন্টিলেটর ও ১০টি শয্যা দেয়। কিন্তু শুধু এই কয়টি সরঞ্জাম দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ হয় না। আরও দরকার পেশেন্ট মনিটর, সিরিঞ্জ পাম্পসহ ২০টির মতো সরঞ্জাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসবের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে বারবার চিঠি লিখে কোনো সাড়া পায়নি। এর মধ্যেই দেশে শুরু হয়ে যায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। ৪০ দিনে শুধু যশোর হাসপাতালেই ভর্তি হন ৭৯ জন রোগী, মারা যান ৫ জন। যশোরে সরকারি আর কোনো হাসপাতালে আইসিইউ নেই। বেসরকারি একটা হাসপাতালে একটা ইউনিট ছিল, কিন্তু খরচ বেশি বলে সেটা বন্ধ আছে। শুধু যশোর নয়, দেশের অনেক জেলার করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থারই মোটামুটি এই চিত্র।

কিন্তু যশোরের মানুষ তো পা গুটিয়ে বসে থাকেনি; যখন বুঝতে পেরেছে, শিগগিরই সরকারের সহযোগিতা মিলবে না, তখন নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছে। ১৭ এপ্রিল যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি যেকোনো উপায়ে ইউনিটটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়; দরকারি জিনিসগুলোর একটা তালিকা ও সম্ভাব্য বাজেট তৈরি করে। সম্ভাব্য মূল্য আসে ৭ লাখ টাকা। নিজ পকেট থেকে টাকাটা দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও পুলিশ সুপার। কেনা হয় ৩টি পেশেন্ট মনিটর ও ১০ সিরিঞ্জ পাম্প। আর আইসিইউ ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা থেকে দুজন ডাক্তার ও চারজন নার্সকে আগেই প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছিল। অবশেষে ২৪ এপ্রিল চালু হয়েছে তিন শয্যার একটি ইউনিট। সেখানে অচিরেই যুক্ত হবে আরও পাঁচটি শয্যা।

বিজ্ঞাপন

সরকারের আশা করে তারা যদি বসে থাকত, তবে কে জানে কবে চালু হতো এই ইউনিট! নিবিড় পরিচর্যার অভাবে ঝরে যেত আরও কত প্রাণ। এ রকম অল্প কিছু টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতির অভাবে বিভিন্ন জেলায় আটকে আছে অনেক আইসিইউ ইউনিটের কাজ। অতীতে আমরা সবকিছুর জন্য এতটা সরকারমুখী আমরা ছিলাম না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কত হাসপাতাল হয়েছে, কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে, খোঁড়া হয়েছে কতশত পুকুর-জলাশয়। তখন দেশে এত কোটিপতি ছিল না। এখন কোটিপতির শুমার নেই। ৬৪টি জেলায় ১২৮ জন সামর্থ্যবান ব্যক্তি এগিয়ে এলেও তো এই করোনাকালে আইসিইউ সুবিধা অনেক বাড়ানো সম্ভব। যশোর সেই পথ দেখাল, অন্যরাও সেই পথ অনুসরণ করে কোভিড রোগীদের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন