default-image

২০১০ সাল থেকে বাসাবাড়িতে গ্যাস–সংযোগ বন্ধ করে দেয় সরকার। তাই বলে নতুন বাসাবাড়ি তৈরি তো আর বন্ধ নেই। তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মানুষ। তঁারা তাহলে কী করে রান্নাবান্না করবেন?

পৃথিবীর অনেক দেশে রান্নাবান্নার একটা জনপ্রিয় উপায় ইলেকট্রিক চুলা। আমাদের দেশে সম্ভবত বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা এবং গ্যাস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে রান্নায় বিদ্যুতের ব্যবহার ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। কাঠ, কয়লা বা কেরোসিন আজকের যুগে অচল। নতুন বাসার বাসিন্দারা তাহলে কী দিয়ে রাঁধবেন? তাঁদের কথা মাথায় রেখেই ২০০১ সালে বাংলাদেশে চালু হয় এলপিজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস)। আর ২০১০ সালে গ্যাস–সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে এই গ্যাস। এখন তো ঢাকাসহ সারা দেশের গৃহস্থালি ও হোটেলের রান্নার একটা বড় অংশেরই চাহিদা মেটায় এই এলপিজি।

কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, এই গ্যাসের মান ও দামের কোনো নিয়ন্ত্রণ ওই অর্থে সরকারের নেই। ফলে গৃহস্থালি এই পণ্যের দাম প্রায়ই ওঠা–নামা করে, অনেক কোম্পানির গ্যাসের মান ও পরিমাণ নিয়েও ভোক্তাদের মনে নানা প্রশ্ন আছে। তারপরও এগুলো মেনে নিতে তাঁরা বাধ্য হন। কারণ, পণ্যটি যে তঁাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

এই পটভূমিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক এলপিজির দাম বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সোমবার থেকেই তাদের বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এক দিনের জন্যও নির্দেশটাকে বলবৎ রাখা যায়নি। কোথাও নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি এলপিজি।

কেন হলো না? কারণ, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আগেই তাঁরা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনেছেন, এখন কম দামে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান হবে। তাহলে কি এই লট শেষ হওয়ার পরে দাম কমে যাবে? লক্ষণ কিন্তু তা বলছে না। কারণ, সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো এখনই বলা শুরু করেছে, উৎপাদন পর্যায়ে খরচ কম ধরা হয়েছে, পরিবহন খরচও ধরা হয়নি, উৎপাদনকারী কোম্পানির মুনাফার সুযোগও রাখা হয়নি।

আমাদের প্রশ্ন হলো, এখন কেন এসব কথা বলছে তারা? গণশুনানিতে তাদেরসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করেই তো দামটা নির্ধারণ করা হয়েছে, তারপর চিঠি দিয়ে তাদের জানানো হয়েছে, ১৪ দিন সময়ও তারা পেয়েছে, তখন কেন আপত্তি করেনি?

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন