বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে একাদশ জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরুর মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত। বাকি ১১টি কমিটি বিষয়ভিত্তিক। চলতি বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে এপ্রিলে কোনো বৈঠক হয়নি। এ ছাড়া সংক্রমণের কারণে মে, জুন, জুলাই—এই তিন মাস বৈঠক হয়েছে কম। করোনার প্রকোপের মধ্যেও নিয়মিত বৈঠক করেছে নৌপরিবহন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি। এ জন্য তারা ধন্যবাদ পেতে পারে। এর বাইরে যে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ৩১টি কমিটি বৈঠকের বিষয়ে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে, তার কৈফিয়ত কী?

মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রধান দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা, অনিয়ম ও গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করা। বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া বা সুপারিশও করে থাকে সংসদীয় কমিটি। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, বিল পরীক্ষার কাজটি তারা করলেও মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। ২০২০ সালে করোনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। গণমাধ্যমে নিয়মিত এসব খবর প্রকাশিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ছিল নির্বিকার। চলতি বছর তারা কয়েকটি বৈঠক করলেও দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো তদন্ত করেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।

এখানে একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যেসব সংসদীয় কমিটি নিয়মিত বৈঠক করেনি, তারা নিজেদের তৈরি বিধিই লঙ্ঘন করেছে। আবার যারা বৈঠক করেছে, তারাও সঠিকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে, বলা যাবে না। বেশির ভাগ সদস্য বৈঠকে গিয়ে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নকাজ ও বরাদ্দে হিস্যা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ সরকারের কাজ তদারকির নামে বিদেশ সফরের সুযোগ খুঁজেছেন। সংসদীয় কমিটির সদস্যদের এ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা জানি, কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া সংসদ কার্যকর হয় না। আর সংসদ কার্যকর না হলে সংসদীয় কমিটিগুলোও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা মেনে নিয়েও বলতে চাই, এসব কমিটির পেছনে যে অর্থ খরচ হয়, জনগণই তা জোগান দেয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তঁারা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিস্মৃত হতে পারেন না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন