দক্ষিণ জনপদের মানুষ বারবার ভুল পরিকল্পনায় নদীভিত্তিক নানা ধরনের আজগুবি প্রকল্প বাস্তবায়নের কসরত দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এর আগে বরিশাল সেচ প্রকল্পের আওতায় সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের খালগুলোতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্লুইসগেট নির্মাণের পর দেখা গেছে, সেসব কোনো কাজে আসছে না। লোহালিয়া সেতু ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শুধু এতটুকুই বলতে পারেন, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত সেতুর উচ্চতা যথেষ্ট নয়, এটা বাড়াতে হবে। কিন্তু এর প্রতিকার কী, সে বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা আছে বলে প্রতীয়মান হয় না। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হলে এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া দুরূহ নয়।

সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেতুটির কাজ ফেলে রাখার যুক্তি নেই। যদি বিদ্যমান কাঠামো বজায় রেখে সেতুর গঠনশৈলীতে পরিবর্তন এনে সমস্যার সমাধান করা যায়, তাহলে সে বিষয়ে আশু সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, সেটা অসম্ভব হলে অপ্রিয় সিদ্ধান্তও দ্রুত নিতে হবে।

সেতুর কাজ ৫৫ শতাংশ শেষ হওয়ার পর যেভাবে ‘পরিত্যক্ত’ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে সেই পুরোনো প্রবচন ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ কথাটিই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন