দেড় লাখ বাসিন্দার পৌরসভা শহরটিতে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যার অর্ধেকই নালা–নর্দমায় ফেলা হয়, সেই কাজটি

করেন স্থানীয় লোকজনই। আর বাকি অর্ধেক সংগ্রহ করেন পৌরসভার

২১৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, সংগৃহীত সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে লাউকাঠী নদীর পারে। সেগুলো আসলে নদীর পানির সঙ্গেই মিশে যাচ্ছে। অন্যদিকে নালা–নর্দমায় ফেলায় বর্জ্যগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্যও নদী।

মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াও নদীতে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় জেলেরা জানাচ্ছেন। একটা সময় যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, তা এখন পাওয়া যায় না। পরিবেশ অধিদপ্তর জানাচ্ছে, এ ব্যাপারে পৌর মেয়রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি নিরাপদ স্থানে বর্জ্যের ভাগাড় করা হয়। আর মেয়র মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ বলছেন, শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে সাত একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে ভাগাড়ের জন্য। কিন্তু নদীর পারের ভাগাড়টি সেখানে কবে স্থানান্তরিত হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি তিনি। আমরা আশা করছি, ভাগাড় স্থানান্তরের কাজটি যতটা সম্ভব দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নদীটি রক্ষায় মেয়র কী উদ্যেগ নিচ্ছেন, সেটাও আমরা দেখতে চাই।

এ দেশে একের পর এক উপজেলা শহর পৌরসভা হিসেবে ঘোষিত হচ্ছে, যার কোনো প্রতিফলনই আমরা দেখি না। অপরিকল্পিতভাবে পৌরসভা শহর করতে গিয়ে নদী, খাল ও জলাশয়গুলো রক্ষার কথা তো ভাবাই হচ্ছে না, উল্টো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিবেশদূষণে বাংলাদেশ আর কত নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হলে আমাদের সরকার ও নীতিনির্ধারকদের হুঁশ হবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন